শর্ত ভেঙে বাড়ির সামনে গরুর হাট

রাজধানীর বনশ্রী এলাকার মেরাদিয়া বাজারে গরুর হাটের অনুমোদন দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। শর্ত অনুযায়ী বাজার ও আশপাশের খালি জায়গায় গরুর হাট বসবে। কিন্তু ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন গলিতে বাড়ির সামনে গরু রাখা হয়েছে। বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তার দুই পাশে গরু রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। এর প্রতিবাদে গত শুক্রবার দক্ষিণ বনশ্রী জামে মসজিদ-২ সংলগ্ন রাস্তায় মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

এলাকার লোকজন জানান, মেরাদিয়া বাজারে সিটি করপোরেশনের গরুর হাটের অনুমোদন পান ইজারাদার মঈনুদ্দিন মিলন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত জায়গা ছাড়াও হাট থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে আবাসিক এলাকার ১৫টি রাস্তা দখল করে হাটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্তমানে ঐ এলাকায় বহু করোনা রোগী রয়েছেন। আর আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলোতে গরুর হাট বসলে করোনা সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়বে। এ কারণে এলাকার বাসিন্দারা দক্ষিণ বনশ্রী আবাসিক এলাকা থেকে গরুর হাট সরাতে ডিএসসিসি মেয়রের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় পাঁচটিসহ মোট ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর সিটির গাবতলী ও দক্ষিণ সিটির সারুলিয়া স্থায়ী হাটেও কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে। ২৮ জুলাই থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন চলবে হাটের কার্যক্রম। ইতিমধ্যে সব কয়টি হাটেই পশু নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা।

সরেজমিনে মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ গলিতেই বাড়ির সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে গরু রাখা হয়েছে। শুধু বাড়ি থেকে মানুষ বের হওয়ার জায়গা খালি রেখে বাকি জায়গা দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে বাজারের প্রধান সড়কের অন্য পাশের গলিতেও বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। সানজামুল হক নামে এক বাসিন্দা জানান, এটি একটি আবাসিক এলাকা। কিন্তু ইজারাদার বেশির ভাগ বাড়ির সামনের জায়গা দখল করে ফেলেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়লে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে আমরা বিপদে পড়ব। এই এলাকায় হাট অনুমোদন দেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে ভাবার দরকার ছিল। আরেক বাসিন্দা হালিমুল আলম জানান, এলাকায় মানববন্ধন করার কারণে ও গেট বন্ধ রাখায় কিছু গলিতে এখনো পশু রাখতে পারেনি। ঈদের আগে এখানেও গরু নিয়ে বসবে না মানুষ তার কি নিশ্চয়তা আছে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কঠোর তদারকি দরকার।

এদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কাউলা এলাকার পশুর হাটের আশপাশেও সড়কের পাশে পশু নিয়ে অনেককে বসতে দেখা গেছে। করোনার সময়ে যত্রতত্র এত পশু থাকার কারণে এলাকায় সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা তো বাড়ির সামনে হাট বসানোর অনুমতি কাউকে দেইনি। এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য কোথাও কাউকে পশু নিয়ে বসার অনুমতি দেইনি। এখন কেউ যদি রাস্তার মধ্যে গরু বিক্রির জন্য বসে সেটি বন্ধে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলব।