শুধু নিজেকে নিয়েই নয়, দেশ ও সমাজ নিয়েও বড় আকারে প্রত্যাশা নতুন
বছর নিয়ে। পুরনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, না পাওয়া সব কিছুকে পেছনে
ফেলে নতুন বছর যেন শান্তি আর সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে সেটাই প্রত্যাশা সকলের। এ
বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারীদের কর্মস্থল, পরিবার ও দেশ নতুন বছরের প্রত্যাশার
কথা জানাচ্ছেন— জিলফুল মুরাদ, ইমদাদ হক, ওয়াজি তাসনিম
সামিয়া তাসনিম
পুষ্টিবিদ
নতুন বছরকে মাথায় রেখে আমার একটাই প্রত্যাশা, সবাই যেন সঠিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানতে পারে এবং প্রত্যেকেই যেন অপুষ্টি থেকে দূরে থাকতে পারে। অবশ্যই সাধারণ মানুষের এই ব্যাপারে সঠিক ধারণা পেতে পুষ্টিবিদের সাহায্যের প্রয়োজন হবে। আমি চাই আমাদের দেশের প্রত্যেকটি স্তরের মানুষ পুষ্টিবিদের সেবা পাক। আমি আমার দিক থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি বিভিন্ন স্কুল, ইউনিভার্সিটি এবং হাসপাতালে আমার পুষ্টি সেবা দিতে পেরেছি। আমি চাই সামনে আরও কাজ করতে পারব।
সেলিনা মোমেন
উন্নয়ন গবেষক
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের ফলে দেশের কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ চলছে। সারাদেশে দেড় হাজারেরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। কিন্তু এসব প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ঠিকমতো দায়িত্ব পালন নিয়ে বেশ সমালোচনা আছে। নতুন বছরের প্রত্যাশা হবে, এসব প্রকল্পসহ সরকারি দায়িত্ব যেন আমরা সবাই ঠিকঠাক পালন করি। দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য, তা পূরণে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজের কাজটুকু সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পাদন করি। দেশের অর্থ অপচয়ে মনোযোগী হই। সত্ পথে থাকব, মিথ্যা কথা কম বলব, কাজে ফাঁকি দেব না। বিনিয়োগ, ব্যবসা শুরু বা নতুন উদ্যোগে যারা আগ্রহী, সরকারি- বেসরকারি অবস্থান থেকে যেন তাদের ঠিকমতো সেবা দিয়ে সহাযোগিতা করতে পারি।
বিতান খানম
চেয়ারম্যান, লোক প্রশাসন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নতুন বছরের শুরুতেই বলতে চাই, কেবল পড়ালেখাই নয়, সত্ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার ব্রত ধারণ করতে হবে শিক্ষার্থীদের। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে সম্পৃক্ত হয়ে নেতৃত্বের দক্ষতা শিখে নিতে হবে। নিজ বিষয়ের পাশাপাশি দরকার অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতার ঝুড়ি বাড়াতে হবে। তবে, পড়া শেষে চাকরি জীবনে হতাশায় পড়তে হবে না। মনে রাখতে হবে, নিজের পড়াশোনার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনে কর্মক্ষেত্রে অবস্থান। কাজেই, শিক্ষার্থীদের যোগ্য হিসেবে গড়ে ওঠার ব্রত থাকতে হবে।
নার্গিস আহমেদ
প্রবাসী উদ্যোক্তা
প্রবাসে আসার পর দেশের কথা হয়ত বেশিই মনে পড়ে। কয়েক হাজার মাইল দূরে থেকেই প্রশান্তি পাই মনে, যখন দেখি লাল সবুজের ছোট্ট দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে তরতর করে। আমাদের অর্থনীতির গতি প্রবাহ দিন দিন বিশ্বকে হতবাক করছে। এই যে অর্থনীতির এই উর্ধ্বগতি, তা মোটা দাগে যে কয়টি ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তার একটি রেমিটেন্স বা প্রবাস আয়। এই অর্থ কেবল তাদের পরিবারের প্রয়োজনই মেটায় না, বাংলাদেশে অবস্থানরত আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করে।
তাহমিনা আকতার নাহার
প্রবাসী
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্পেনের বার্সেলোনা শহরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা তাহমিনা আকতার নাহার। খুব কমই দেশে আসা হয়। কিন্তু দেশের সব বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন তিনি। চলমান পরিস্থিতি, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থাসহ নানা বিষয় নাড়া দেয় তাকে। তবে, নতুন বছরে দেশের প্রতি তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা দেশ যেন শান্তিতে থাকে। কোনো প্রবাসী দেশে বেড়াতে গেলে কোনো ধরনের ঝামেলা যেন না হয়। এর পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যেন থাকে স্থিতিশীল।
আফরোজা আলীম আশা
শিক্ষার্থী
সমপ্রতি স্নাতক শেষ করেছেন আশা। লক্ষ্য সাংবাদিক হওয়ার। দেশের উন্নয়নে একজন যোগ্য সাংবাদিক হওয়াই প্রধান ইচ্ছে তাঁর। তাই নতুন বছরের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট। দেশের স্বনামধন্য কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা। রাতদিন পরিশ্রম করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। ‘আমার জীবনের সার্থকতা একজন আদর্শ ও প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক হওয়া। সেই সঙ্গে পরিবারের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। বাবা মায়ের অবশ্যই অনেক ভালো লাগবে আমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখতে পারলে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ও কর্ম জীবনের সূচনাই এ বছরের প্রধান প্রত্যাশা আমার’ বলেন আফরোজা আলীম আশা।
জাকিয়া খাতুন
শিক্ষিকা
স্কুল শিক্ষিকা জাকিয়া খাতুন। রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এ বছরেও নতুন বছর নিয়ে রয়েছে তাঁর প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষা দান তাঁর প্রধান প্রত্যাশা। বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছরে যেন আরও ভালোভাবে শিক্ষা দান করতে পারেন সেই প্রচেষ্টাই করতে চান তিনি। তারা যেন উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। নতুন বই ও লেখাপড়ার নতুন সরঞ্জামাদির সঙ্গে যেন শুরু হয় প্রতিটি শিক্ষার্থীর নতুন বছর। ‘উপযুক্ত শিক্ষা দানের পাশাপাশি আমি চাই দেশের প্রতিটি শিশু যেন শিক্ষালাভ করার সুযোগ পায়। অর্থের অভাবে শিক্ষা গ্রহণ থেকে যেন বঞ্চিত না হয় একটি শিশুও সেই প্রত্যাশাই করি। আমার বিদ্যালয়টির আরও উন্নয়ন কামনা করি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হোক যাতে তারা হাতেকলমে শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।’ বলেন শিক্ষিকা জাকিয়া খাতুন। নিজ বিদ্যালয়য়ের সঙ্গে দেশ ও সমাজেরও কল্যাণ কামনা করেন তিনি।