একধাপ এগিয়ে যাওয়া

মিমের ‘টুকরো হাসি’

  ফায়জুন সিতু

 

ছোটবেলা থেকেই সবার চেয়ে যেন একটু অন্যরকম ছিলেন মিম। তার বয়সী অন্য মেয়েরা যখন হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে মিছে রান্নাবাটি খেলতো, এই মেয়েটা তখন হাতে ব্যাট-বল নিয়ে বেড়িয়ে পড়তো সবুজ মাঠে। নীল আকাশ আর সবুজ মাঠের সখ্যতায় বেড়ে ওঠা ছোট্ট মিম একদিন প্রকৃতির সাথে মানুষের জীবনকেও আবিষ্কার করে একটু ভিন্নভাবে।

হঠাত্ একদিন তার চোখে ধরা পড়ে এক রূঢ় বাস্তবতা। তার চারপাশেই অসংখ্য সচ্ছল মানুষের পাশাপাশি আরেক দল মানুষ আছেন যাদের ঠিক মতো খাবার জোটে না, মানুষগুলো তীব্র শীত কাটিয়ে দেয় কোন রকম শীতবস্ত্র ছাড়াই। সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ছোট্ট মিমের মনকে ভাবিয়ে তোলে। স্বপ্ন দেখার শুরুটা হয় সেখান থেকেই।

মিম তার বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘শীতের হাসি’-নামে একটি সংগঠন। পরবর্তীতে কাজের পরিসর বাড়লে এর নাম হয় ‘টুকরো হাসি’। সংগঠনটি ফান্ড সংগ্রহ করে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে। মিম কবিতা লিখেন। তার কবিতা ত্রৈমাসিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কবিতা লেখার পাশাপাশি মিম নাটক ও বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করে ইউটিউবে দেন। এই সব কাজের মাধ্যমে মিম এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন এবং কথা ও কাজের বাস্তবায়ন করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হন। এখন অনেক দূর দূরান্ত থেকেও অনুদান পায় ‘টুকরো হাসি।’

বন্যা থেকে শুরু করে প্রায় ১৩টির অধিক কাজ করেছে ‘টুকরো হাসি’। ২০১৭ সালে সারিয়াকান্দির বগুড়াতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ১০৯টি পরিবারকে। ২০১৬ থেকে “টুকরো হাসি”রোজার ঈদে সেমাই, নুডুলস বিতরণ করে যাচ্ছে নিয়মিত। হুট করে রাস্তায় পেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষকে নাস্তা করানো, কাপড় কিনে দেওয়ার মতো কাজ প্রায়ই করে সংগঠনটি। কখনো আবার মানুষের জন্য পায়ে হেঁটে বিভিন্ন সচেতনমূলক কাজ আর ক্যাম্পেইনও করে থাকে ‘টুকরো হাসি’। মিম জানান টুকরো হাসির প্রতিটি কাজ তার কাছে অন্যান্য কাজের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায়। এমনও হয়েছে পরীক্ষার আগের দিনও ক্যাম্পেইন করেছেন মিম ও তার বন্ধুরা। দিনের সাথে টুকরো হাসির সদস্য সংখ্যা বেড়ে এখন প্রায় ২৭ জন। এদের মাঝে চাকরিজীবীও আছেন, তবে শিক্ষার্থীই বেশি। বাবার চাকরি সূত্রে বগুড়ার মেয়ে সাজিয়া সুলতানা মিমের বেড়ে ওঠা রাজশাহী শহরে। বাবা জিয়াদুর রহমান ও মা রেহেনা আকতারের চার ছেলে-মেয়ের মাঝে মিম ছোট। পড়ছেন ব্যবস্থাপনা সাবজেক্ট নিয়ে রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে।