লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন সহশিক্ষা কার্যক্রম

>>  সৈয়দ তাওসিফ মোনওয়ার

 

দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সহশিক্ষা কার্যক্রম এখনো জনপ্রিয়তা পায়নি। উন্নত বিশ্বে; অর্থাত্ শিক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, সমাজ-সভ্যতায় এগিয়ে থাকা দেশগুলোয় সহশিক্ষাকে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মনে করা হয়। সহশিক্ষা ছাড়া শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। সহশিক্ষা পাঠক্রমিক কার্য বলতে সাধারণত পুঁথিগত বিষয়ের বাইরে জ্ঞানার্জনের প্রক্রিয়াসমূহকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামগ্রিক জীবন ও সৃজনশীলতার বিকাশে পূর্ণ সহযোগিতা করে। সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ ধরনের কার্যাবলি শ্রেণিকক্ষের পঠন-পাঠনের একঘেয়েমি ও অবসন্নতা দূর করে এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটায় ও তাদের মূল্যবোধে উজ্জীবিত করে। এর মাধ্যমে তরুণেরা বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে পরিচিত হয় এবং সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলে। সর্বোপরি সহ-পাঠক্রমিক কার্যাবলির মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ জাগরিত হয়, ভবিষ্যত্ বৃত্তি নির্বাচনে সহায়ক হয়। একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক প্রয়াস থাকবে মেধাভিত্তিক শিক্ষাচর্চাকে কেন্দ্র করে। এ জন্য মূল পাঠ্যের বিশ্লেষণধর্মী অনুশীলন ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত চর্চায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থায় সামনের সারিতে নিয়ে এসে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে সকলকে সমান তালে এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে পড়াশোনাটা যেমনি হতে হবে মানবিক মূল্যবোধ তৈরির লক্ষ্যে, তেমনি এটিকে নিতে হবে একটি নান্দনিক আত্মস্থ করণের ব্যাপার হিসেবে।

অন্যদিকে একটি আদর্শ স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রথম প্রয়াস থাকবে শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশে ভূমিকা রাখা। এই পর্যায়ে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে বেশি বেশি উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে। এ ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। যেমন :খেলার মাঠ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্রীড়া শিক্ষক, খেলার উপকরণ, নিয়মিত বিতর্ক অনুষ্ঠান আয়োজন ও এর প্রতিযোগিতা, অনুশীলন তথা চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। নিয়মিত বিজ্ঞান মেলার আয়োজন, সাহিত্য চর্চা ও এর প্রতিযোগিতার জন্য সাহিত্য পত্রিকা ও দেয়ালিকা প্রকাশসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজন করতে হবে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে ক্রীড়াবিদ, সংগীত ও নৃত্য শিল্পী, উপস্থাপক এবং নেতৃত্ব চর্চাসহ বহু কিছু। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন বিতার্কিক, উপস্থাপক কিংবা অন্য বিদ্যায় পারদর্শীরা অপেক্ষাকৃত আত্মবিশ্বাসী তথা সাহসী হওয়ার কারণে তারা পরীক্ষার হল থেকে শুরু করে জীবনের অন্য যেকোনো পরীক্ষায় সাধারণদের চেয়ে তুলনামূলক কম জানাশোনা বা পড়াশোনা করেও এগিয়ে থাকে। বিশেষ করে এসব সহশিক্ষা চর্চা ও খেলাধুলা মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে এসব সংশ্লিষ্টতায় মন প্রফুল্ল থাকে এবং কাজের স্পৃহা তৈরিসহ দেহ-মন সুস্থ থাকে, যা জীবনে সাফল্যের প্রধান নিয়ামক।