>> কানিজ ফাতেমা
ডেনিয়েল এইচ পিংক মূলত একজন লেখক এবং একজন মোটিভেশনাল স্পিকার। তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলেও বেশ কিছুদিন কাজ করেছিলেন।
তার বিখ্যাত মোটিভেশন স্পিচ হলো ‘The puzzle of motivation’ এখানে মূলত তিনি আমাদের তথাকথিত সমাজব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেসব নিয়ে কথা বলেছিলেন। এসব সমস্যা থেকে আমরা এখনো বের হতে পারিনি। আমাদের সমাজব্যবস্থা যেভাবে চায় আমরা সেদিকেই এগুতে থাকি। হয়তো আমরা এর থেকেও ভালো কিছু করার ক্ষমতা রাখি কিন্তু যখন সমাজব্যবস্থার বানিয়ে দেওয়া বিষয়কে আমরা আমাদের গন্তব্য বানিয়ে ফেলি তখন সেই গণ্ডিই পেরোতে পেরোতেই নিজেদের সৃষ্টিশীলতা ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ আপনি তাদের বানিয়ে দেওয়া সমস্যা সমাধান করছেন যেখানে আপনার নিজস্বতা খুবই কম গুরুত্ব পায়।
ধরুন আপনার ভালো ফলাফল আপনাকে ভালো একটা চাকরি পাওয়াতে সাহায্য করবে, সে জন্য আপনাকে ভালো নম্বর পেতে হবে। ভালো নম্বরের পিছনের পরিশ্রম আপনাকে একজন ভালো টেস্ট রাইটার বানাতে পারবে কিন্তু আপনাকে কখনোই ভালো চিন্তাবিদ বানাবে না। আমরা যখন নিজের চিন্তা শক্তি হারিয়ে ফেলব সেটা সমাজের জন্য হুমকি স্বরূপ।
আমরা যখন বানিয়ে দেওয়া পথে হাঁটব তখন আমাদের চিন্তা করার জায়গা কমে যাবে। তিনি তার ব্যক্তব্যে একটি উদাহরণ তুলে ধরেছিলেন ‘ক্যান্ডেল প্রবলেম’। তিনি এর মাধ্যমে বুঝিয়েছিলেন আমাদের সব কাজের মধ্যেই এই সমস্যাটি বিরাজমান। কিন্তু সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আমরা যা করে থাকি তা একদমই অনুচিত।
ডেনিয়েল পিংকের স্পিচের সারমর্ম হলো আমরা সফলতা ভেবে যে প্রতিযোগিতার ভিতর দৌড়াই আর যেটাকে আমরা সফলতা ভেবে বসি সেটা আপাতত দৃষ্টিতে চিন্তা করলে সাময়িক লাভ কিন্তু দূরদর্শী চিন্তা করলে সেটা থেকে কোনো ফিডব্যাক আসে না আর্থিক ছাড়া। একই ঘটনা ঘটে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়, আমরা আপতত দৃষ্টিতে যা পড়ি তা একটা সার্টিফিকেটের জন্য, যেখানে আমরা শুধুই ভালো নম্বর পাওয়ার আশায় পড়ি কিন্তু চর্চা করি না। যেখানে পড়ালেখা করার প্রকৃত অর্থ ব্যাহত হয়।
আমরা নিজেদের মোটিভেশন যদি আমরা আমাদের কাজের মধ্যে নিয়ে আসি। শুধু ব্যবসায়িক অর্থে কাজ না করে আমরা পরিবর্তনের আশায় কাজ করি তবেই আমাদের অনেক কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব হবে তবেই আমরা সব ‘ক্যান্ডেল প্রবলেম’ সমাধান করতে পারব।