‘একটি ভালো টিমে থাকবে বৈচিত্র্য’

প রা ম র্শ

২০১৩ সালে মহসিনুল হক কোকা-কোলার হিউম্যান রিসোর্সেস (এইচআর) ডিরেক্টর পদে যোগদান করেন। এমপ্লয়ি রিলেশনস, চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট, ট্যালেন্ট অ্যাকুইসিশন, লার্নি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ এই বিভাগের সকল শাখাতেই মহসিনুল হকের বিচরণ। বর্তমান সময়ে এসে একটি কোম্পানির জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এইচআর বিভাগ। কোম্পানিতে দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং যোগ্যতার মূল্যায়নের বিষয়টিতে পুঙ্খাণুুপুঙ্খ খেয়াল রাখতে হয় এই বিভাগকে। একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে এই হিসেবের পাল্লাটা হতে হয় আরও সতর্কভাবে। সম্প্রতি প্রজন্ম-এর সঙ্গে হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মহসিনুল হক

হিউম্যান রিসোর্স অভিজ্ঞতায় লক্ষ্য পূরণ করতে কর্মীদের কী ধরনের পরিবেশের মাধ্যমে গড়ে

তুলতে হয়?

একটা ভালো কর্মপরিবেশ তৈরি করতে সময় এবং প্রচেষ্টার বিনিয়োগ সবসময়ই কার্যকর। দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসায় এই বিনিয়োগের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ লাভ রয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে ভালো কাজের সংস্কৃতি এবং পরিবেশ সবসময়ই মেধাবীদের আকর্ষণ করে। আর এই মেধাবী কর্মীরাই কোম্পানিতে দ্রুত এবং স্থায়ী উন্নতি সাধনে অবদান রাখে এবং কোম্পানির লক্ষ্য সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা রাখে।

সম্ভাব্য নেতৃত্ব তৈরির পরিবেশ সৃষ্টিতে কোকা-কোলা বাংলাদেশে কিভাবে কাজ করছে?

প্রথমত, কোকা-কোলার জন্য উপযোগী মেধাবীদের আকর্ষণ করতে আমরা একটি কার্যকরী প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি, যার মূল লক্ষ্যই হলো ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশন। নেতৃত্ব বিকাশের জন্যে গঠনমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বাস্তব ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ—এই দুটির সুষম সমন্বয় করা হয়। কোকা-কোলা কোম্পানিতে সবসময় যেকোনো উদ্যোগী তরুণ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ পদের সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। এতে তরুণেরা সঠিক দিকনির্দেশনাগুলো বুঝতে পারেন।

আপনার অভিজ্ঞতায় একটি টিমের উন্নয়নের প্রধান চাবিকাঠি কী কী?

একটি ভালো টিম বিকাশের জন্য একজন ভালো নেতা প্রয়োজন, যিনি কর্মীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, তাদের কাজে যুক্ত রাখতে পারেন, দুঃসময়ে তাদের নৈতিক মনোবল ধরে রাখতে পারেন।

আপনার কর্মীদের জন্য কোন ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আপনি মনে করেন?

কর্মীদের প্রশিক্ষণ হওয়া উচিত কাঠামোগত প্রশিক্ষণ প্রয়োজনীয়তার মূল্যায়নের (টিএনএ) ওপর ভিত্তি করে। টিএনএ প্রথমত সাংগঠনিক লক্ষ্য, কৌশল ও কৌশলগত ব্যবসা অগ্রাধিকার মূল্যায়ন করে। তারপর স্বতন্ত্র ভূমিকা, দক্ষতার ঘাটতি এবং ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা মূল্যায়ন করে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সিনিয়র পর্যায়ে আমাদের লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং মিড লেভেল ও জুনিয়র লেভেলে মৌলিক দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত।  

আপনার অভিজ্ঞতায় কাউকে প্রশিক্ষণ/পরামর্শ দান কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আপনি যদি একটি সফল ডায়নামিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চান তাহলে আপনার কর্মীর মনোবল এবং প্রতিশ্রুতি নির্মাণের জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন আছে। ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের পরিবর্তে কোচিং ও আমাদের কর্মশক্তি মেনে চলে আমরা অসাধারণ ফলাফল পেতে পারি। আমরা নেতা হিসেবে সাধারণভাবে আমাদের দায়িত্ব হলো অন্যদের পারফরম্যান্সের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া। অতএব আমাদের কর্মীদের কর্মক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতি বাড়াতে কোচিংকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করি। আমাদের জন্য যারা কাজ করেন তারা যেন তাদের যোগ্যতা এবং সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিতে পারে সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকি।