পর্যটনশিল্পে চরম দুর্দিন এনেছে করোনা। চরম সংকটে পড়েছেন পর্যটনসেবার সঙ্গে জড়িত নানা পেশার লোকজন। বিগত চার মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ না থাকায় অন্যদের মতো কষ্টে দিন কাটছে কক্সবাজার সৈকতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের ছবি তুলে সংসার চালানো আলোকচিত্রীদের। মার্চের মধ্যবর্তী সময় হতে ক্যামেরার ক্লিক বন্ধ থাকায় চরম দুর্দশা নেমে এসেছে ওদের জীবনে। অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে অধিকাংশের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে বৈধ-অবৈধ সহস্রাধিক আলোকচিত্রী রয়েছেন। নিয়মিত প্রায় ৫০০ ক্যামেরাম্যান উপার্জনে থাকতেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিজন গড়ে ৩০০ টাকা হারে আয় করলেও দিনে তাদের আয় ছিল দেড় লাখ টাকা। সে হিসেবে করোনা কালের গত চার মাসে তারা প্রায় ২ কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সৈকতের সীগাল পয়েন্ট আলোকচিত্রীদের সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, সীমিত পরিসরে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও পর্যটনশিল্প বন্ধ। ফলে একপ্রকার খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তাদের পরিবার।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, এরই মধ্যে কক্সবাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। ছোট-বড় সব পেশাজীবীর খবর নেওয়া সরকারের দায়িত্বে পড়ে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা দিয়ে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেওয়া গেলে এখানে সংযুক্ত মানুষগুলোর জীবনের গতি আবার সচল হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটনসেবী ছোট-বড় সব পেশায় জড়িতদের যথাসাধ্য সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। শিগিগরই পর্যটনসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।