শরীয়তপুর প্রতিনিধি
১৯৪২ সাল থেকে দুর্গম চরের শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টি ফের পদ্মার ভাঙন হুমকিতে পড়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪২ সালে বসাকেরচর গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পাঠদানের জন্য চার জন শিক্ষক আছেন। এর আগেও বিদ্যালয়টি আরো কয়েক দফা ভাঙনের শিকার হয়। সর্বশেষ ২০০৭ সালে বিদ্যালয়টি পদ্মায় বিলীন হয়। এরপর বসাকের চরের নতুন স্থানে ৪০ শতাংশ জমির ওপর ২০০৭ সালে বিদ্যালয়টি নতুন ঠিকানা পায়। ঘূর্ণিঝড়ে আধাপাকা ভবন বিধ্বস্ত হলে ২০১২ সালে একটি দ্বিতল ভবন ও ২০১৭ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পদ্মার ভাঙন যেভাবে হচ্ছে তাতে মনে হয় না বিদ্যালয়টি রক্ষা করা যাবে। যখন পাকা ভবনগুলো নির্মাণ করা হয় তখন নদী অন্তত দেড় কিলোমিটার দূরত্বে ছিল। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, এখন হাজারো মানুষের স্মৃতিবিজরিত বিদ্যালয়টি পদ্মায় হারিয়ে যেতে দেখব। পরিস্থিতি মেনে নিয়ে পাশের সরকারকান্দি গ্রামে একটি স্থানে ফার্নিচার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।