কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
কাঠালিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক গর্ভবতী নারীসহ একই পরিবারের তিন জনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আমুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় রাজা হাওলাদার (৩৫) নামে এক জনকে আটক করেছে। সে ঐ গ্রামের আমজেদ হওলাদারের ছেলে।
হামলায় আহতরা হলেন, মো. ইউনুচ হাওলাদার (৫০) তার ছেলে রিপন হাওলাদার (৩০) ও রিপনের গর্ভবতী স্ত্রী সেলিনা বেগম (২৬)। গুরুতর আহত ইউনুচ মিয়া ও তার ছেলের বউ সেলিনাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিত্সক। রিপন হাওলাদার আমুয়া হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, পুলিশের হাতে আটক রাজা হাওলাদারের পরিবারের সঙ্গে আহত ইউনুচ হাওলাদারের দীর্ঘ দিন জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজা হাওলাদারের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষরা ইউনুচ হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইউনুচ হাওলাদার, তার ছেলে রিপন হাওলাদার ও রিপনের গর্ভবতী স্ত্রী সেলিনা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে গুরুতর আহত ইউনুচ মিয়া ও তার ছেলের বউ সেলিনাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত সেলিনা বেগম বলেন, রাজা আমাদের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার শ্বশুরের মাথায় দুইটি কোপ দিয়ে গুরুতর আহত করে এবং আমার বাম হাতে একটি কোপ দেয়। তারা আমার পেটেও লাথি মারে। আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় আমার স্বামী বাদী হয়ে কাঠালিয়া থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউপি চেয়াম্যান মো. আমিরুল ইসলাম ফোরকান সিকদার জানান, উভয়পক্ষের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।
কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ পুলক চন্দ্র রায় বলেন, এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে রাজা নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।