ভাত বেড়ে না দেওয়া, শিশুপুত্রকে মারধর ও পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে পাষণ্ড স্বামী ওমর ফারুক। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার মধ্যম বলিপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ জানান, ঘাতক স্বামী ওমর ফারুক পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে স্থানীয় সেনাইপুল বাজারের ফল ব্যবসায়ী ওমর ফারুক জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে স্ত্রী রাশেদা বেগম বাথরুম থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিছন থেকে ধারালো দা দিয়ে তিনি তার ঘাড়ে সজোরে কোপ দেন। এতে স্ত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর তাকে জবাই করে হত্যা করেন। পরে দা ছাগলের ঘরে লুকিয়ে রাখেন। তিনি বলেন, স্ত্রী রাশেদা প্রায়শই কারণে-অকারণে তার সঙ্গে ঝগড়া করত। তাকে ভাত বেড়ে দিত না। একমাত্র শিশুপুত্রকে মারধর করত এবং দীর্ঘদিন ধরে সহবাসে অসম্মতি জানাচ্ছিল। এসব কারণেই তিনি রাশেদাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
নিহত রাশেদার বাবা আবু সৈয়দ বলেন, প্রায় তিন বছর আগে মধ্যম বলিপাড়ার প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ওমর ফারুকের সঙ্গে রাশেদার বিয়ে হয়। তাদের ২০ মাসের একটি শিশুপুত্র রয়েছে। গত ছয়-সাত মাস ধরে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। কয়েক মাস আগে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের উপস্থিতিতে সালিশও হয়। ঐদিন রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। বাবা অটোরিকশাচালক আবু সৈয়দ তার মেয়ে হত্যার জন্য ঘাতক স্বামী ওমর ফারুকের ফাঁসির দাবি জানান।
রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ সামছুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করি। স্বামী ওমর ফরুক, শাশুড়ি জোহরা বেগম রানী, দেবর শরিফ, ননদ আমেনা ও জান্নাতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে আনা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।