স্যানিটাইজার থেকে আগুন, দগ্ধ সেই চিকিত্সকের মৃত্যু

রাজধানীর হাতিরপুলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে আগুন ধরে দগ্ধ হওয়া চিকিত্সক ডা. রাজিব ভট্টাচার্য গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আগুনে দগ্ধ তার স্ত্রী ডা. অনুসূয়া ভট্টাচার্য একই ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন। এদিকে বংশালের বাসায় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই সন্তানের পর তাদের বাবা জাবেদ হোসেনও (৩৫) গতকাল একই ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ডা. রাজিবকে বাঁচানো গেল না

২১ জুলাই রাতে হাতিরপুলের ভাড়া বাসায় একটি বোতল থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার অন্য বোতলে ঢালছিলেন ডা. রাজিব ভট্টাচার্য। এ সময় তার ঠোঁটে সিগারেট জ্বলছিল। হঠাত্ স্যানিটাইজারে মুখ থেকে জ্বলন্ত সিগারেট পড়ে যায়। অমনি দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তার চিত্কারে স্ত্রী অনুসূয়া ভট্টাচার্য পাশের রুম থেকে ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ সময় অনুসূয়াও দগ্ধ হন। এই দম্পতির সাড়ে পাঁচ বছর বয়সি একমাত্র মেয়ে রাজশ্রী ভট্টাচার্য ঘটনার সময় কুমিল্লায় দাদার বাড়িতে ছিল বলে রক্ষা পায়।

তাদেরকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তির পর চিকিত্সকরা জানিয়েছেন ডা. রাজিবের শরীরের ৩৭ ভাগ ও ডা. অনুসূয়ার ২০ ভাগ পুড়ে গেছে। কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার ইস্টো গ্রামের লক্ষ্মণ ভট্টাচার্যের ছেলে রাজিব দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ছোট। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিত্সক ছিলেন। তার স্ত্রী শ্যামলি সেন্ট্রাল মেডিক্যালের চক্ষু বিভাগের রেজিস্ট্রার।

বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, রাজিবকে ভর্তি করার পর থেকেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। গত সাত দিন তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু ছেলেটা ফিরল না। তিনি আরো বলেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এটি সাংঘাতিক দাহ্য পদার্থ। আগুনের কাছে যেন কোনোভাবেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার না থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

দুই সন্তানের পর বাবাও না ফেরার দেশে

গত ২৩ জুলাই সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর বংশালে কসাইটুলি ৪৪/১ নম্বর দুই তলা বাড়ির নিচতলায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বাসাটির একপাশের দেওয়াল ধসে এর নিচে চাপা পড়ে জাবেদের ছেলে মইনুল (৩) মারা যায়। আর দগ্ধ হয় শিশুটির বাবা, মা ও বড় বোন জান্নাত (৫)। তাদেরকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার আইসিইউতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় জান্নাতের মৃত্যু হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় আইসিইউতে জাবেদ মারা যান। শিশু দুটির মা শিউলি আক্তার (২৫) এখনো চিকিত্সাধীন। ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, জাবেদের ৩৭ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তার স্ত্রীর শরীরের ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।