এই দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কাহারা

পুলিশ প্রশাসন জঙ্গি তত্পরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করিতেছে। সম্প্রতি পুলিশের সদর দপ্তর হইতে সমগ্র দেশের সকল ইউনিটকে চিঠি দিয়া সতর্ক করা হইয়াছে। তবে বুধবার রাজধানীর পল্লবী থানায় বিস্ফোরণে পাঁচ জন আহত হইয়াছে যেই সকল ধৃত ব্যক্তির কাছে প্রাপ্ত বোমার দ্বারা, তাহারা জঙ্গি নহে বলিয়া জানানো হইয়াছে পুলিশের দায়িত্বশীল মহল হইতে। উহাদেরকে চিহ্নিত করা হইয়াছে ভাড়াটিয়া খুনি। জঙ্গিই হউক আর সন্ত্রাসীই হউক, সমাজে তাহাদের অপতত্পরতা একই রকম ক্ষতিকর। সাধারণ ধারণায় জঙ্গি বলা হইয়া থাকে যাহারা অন্ধ ধর্মীয় উন্মাদনায় বিভিন্ন স্থাপনায় এবং মানুষের উপর জীবনঘাতী হামলা করিতে চেষ্টা করে। তাহারা শুধু বাংলাদেশে নহে, বিশ্বের ধনী-দরিদ্র সকল দেশের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। আর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা কেবল মানুষের জীবনের জন্য হুমকি নহে, তাহাদের অত্যাচারের হাত সরকারি দরিদ্র সহায়তার অর্থ ও চাল গম হইতে শুরু করিয়া টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, হাট-ঘাট দখল, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল সর্বক্ষেত্রেই বিস্তৃত। দেশ ইহাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কম হয় না। কিন্তু জঙ্গির ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যতটা তত্পর থাকে এই সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে ততটাই নির্লিপ্ত।

ইহার পিছনে কিছু কারণও আমরা দেখিতে পাই। এই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ লুটেরা সম্প্রদায় সরকারি দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করিয়া থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারে থাকা রাজনৈতিক দল জানেও না যে, ইহারা তাহাদের দলের লোক। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তাহাদের পরিচয় সরকারি দলের হিসাবে। সেই সঙ্গে ঐ পরিচয় লইয়া তাহারা প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক গড়িয়া তুলে। ফলে এই শ্রেণির কাছে দেশের সাধারণ মানুষ জিম্মি হইয়া পড়ে। ইহারা যেই দল যখন ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের ছায়াতলে গিয়া আশ্রয় নেয়। কিন্তু প্রশ্ন থাকিয়া যায়, কাহারা ইহাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়া থাকে, সেই খবর কি নীতিনির্ধারক মহলে গিয়া পৌঁছায় না? আমরা জানি ইহারা কারা, ইহাদের অপকর্মগুলি কী ধরনের, কোন পদ্ধতিতে ইহারা দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ করিয়া থাকে। আর যেই দল সরকার পরিচালনা করে, তাহারা জানিবে না কেন?

এই সকল সন্ত্রাসীর অধিকাংশের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। এর একাধিক কারণ উপরে উল্লেখ করা হইয়াছে। কিন্তু কদাচিত্ দুই-চার জন বিভিন্নভাবে আইনের আওতায় আসিলেও নানা ফন্দি-ফিকিরে তাহারা জামিন লইয়া বাহির হইয়া আসে। বিচার বিভাগ হয়তো তাহার নিজের গতিতে চলে, কিন্তু আইন সর্বদা নিজের গতিতে চলিতে পারে না। বিচারের সম্মুখীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি সঠিক সাক্ষী উপস্থাপন না করা হয়, যদি অভিযোগের মধ্যে ফাঁকফোকর রাখিয়া দেওয়া হয়, দুর্বল তদন্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়, তাহা হইলে তো উহারা বিচার এড়াইয়া বাহির হইয়া আসিবেই। এই সকল বিষয়ে সঠিকভাবে নজর দেওয়া গেলে সন্ত্রাসীরা পার পাইবে না। সমাজে স্থিরতা আসিবে। ফলে জঙ্গি হইবার সুযোগও কমিয়া যাইবে। সেই সঙ্গে নীতিনির্ধারক মহলকেও জানিতে হইবে যে, দলে নাম লিখানো সকলেই দলীয় আদর্শ লইয়া রাজনীতি করেন না। তাহাদের বড় একটি অংশ ‘বাণিজ্য’ তথা আখের গোছাইবার, তথা সিঁড়ি বাহিয়া উপরে উঠিবার তত্পরতায় লিপ্ত।