আমিষের অন্যতম উত্স চিংড়ি অনেকের প্রিয়। এছাড়া এটি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি রপ্তানি পণ্য। নদ-নদী, উপকূলীয় এলাকা, গভীর সাগর ইত্যাদি প্রাকৃতিক উত্স থেকে নানা জাতের চিংড়ি সংগ্রহের পাশাপাশি এখন বিভিন্নভাবে চাষ করা হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে বাগদা ও গলদা চিংড়ির ওজন বাড়াতে বিষাক্ত রাসায়নিক জেলি মেশাচ্ছেন। ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে সিলিকা নামক জেলি চিংড়ির মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম বা তারও বেশি ওজন বেড়ে যায়। আবার বিভিন্ন উত্স থেকে মানহীন ও আধা পচা চিংড়ি সংগ্রহ করে তাতে জেলি মিশিয়ে স্থানীয় বিক্রেতাদের সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় বাজারের ছোট ব্যবসায়ীরা এ সম্পর্কে অজ্ঞ।
এই জেলি মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, জেলি মেশানো চিংড়ি মানুষের খাদ্যনালি, পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করে। কিডনি নষ্ট ও ক্যান্সারের কারণও হতে পারে। ইদানীং দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জেলি মেশানো বিপুল পরিমাণ চিংড়ি জব্দ করেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে ক্ষতি এড়ানো সম্ভব নয়। মাছের পচন রোধে ব্যবহূত ফরমালিন সম্পর্কে মানুষ জানলেও জেলি মিশ্রিত চিংড়ির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে এখনো ততোটা সচেতন নয়। ফলে উচ্চমূল্যে তারা বাজার থেকে বড় আকারের চিংড়ি কিনছে। পরিশেষে, উপর্যুক্ত বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি জনস্বার্থে অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর সাজা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
আবু ফারুক
বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান