সরকারি ভিজিএফ এর চাল নিয়ে চালবাজি চলছেই। বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ এখনও পাওয়া যাচ্ছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ভিজিএফের চাল বঞ্চিতদের বিক্ষোভের মুখে বাজার থেকে চাল কিনে তাদের মাঝে বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। শেরপুরের নালিতাবাড়িতে ভিজিএফের ১০ বস্তা চাল দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ না করে সেই চাল ভুয়া স্লিপধারী ইউপি সদস্যসহ তথাকথিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে পাচারকালে তা স্থানীয় লোকজন আটক করেন। নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চাল না পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন চালবঞ্চিতরা।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে ভিজিএফের চালবঞ্চিতরা চাল না পাওয়ার বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেনকে জানালে তিনি বিতরণস্থলে যান। এসময় জন বিক্ষোভের মুখে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউএনও’র উপস্থিতিতে নিজের অর্থায়নে দুঃস্থ মানুষদের চাল কিনে দিতে বাধ্য হন। বঞ্চিত ১২২ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু জানান, ইউপি সদস্যদের মোট ৪ হাজার ৪০৩ জনকে স্লিপ দিতে বলেছি। এর মধ্যে ইউনিয়নের ৬১ টি মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকেও অন্তর্ভূক্ত করতে বলি। কিন্তু ইউপি সদস্যরা ৪ হাজার ৪০৩ জনকে স্লিপ দেওয়ার পর অতিরিক্ত ১২২ জন ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে ভিজিএফের স্লিপ বিতরণ করেন। সকালে ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা স্লিপ দিয়ে চাল নিয়ে যান। ফলে বিতরণ শেষে ১২২ জন চাল পাননি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, অমরখানা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইজুল হকের বিরুদ্ধে ভুয়া স্লিপ তৈরি করে বিতরণের প্রমাণ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নালিতাবাড়ী(শেরপুর)সংবাদদাতা জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য রাখা ভিজিএফের চাল পাচারকালে দশবস্তা চাল আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের কাপাসিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, যোগানিয়া ইউয়িনের ১ হাজার ৪৪৭ জন দুস্থের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কতিপয় জনপ্রতিনিধি প্রকৃত উপকারভোগীর পাশাপাশি নামে-বেনামে চাল বিতরণের তালিকা ও শ্লিপ তৈরি করেন। এসব ভুয়া শ্লিপের অনুকূলে থাকা চাল গোপনে পাচারকালে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ১০ বস্তা চাল আটক করেন। তবে চাল পাচারে জড়িত সাবেক ইউপি সদস্য চান মিয়াসহ অন্যরা দ্রুত সটকে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান পুলিশ নিয়ে এসে আটক ১০ বস্তা চাল জব্দ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চালবঞ্চিতরা গতকাল বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাওসহ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে স্লিপের মাধ্যমে ৯ হাজার ৯৯৮ জনকে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। দু’দিন ধরে এলাকার লোকজনকে চাল দেওয়া হলেও তৃতীয় দিন বুধবার সকালে প্রায় ১ হাজার স্লিপধারী চাল নিতে এলে তাদেরকে বলা হয় চাল শেষ হয়ে গেছে। এ মূহর্তে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কথা শুনে স্লিপধারীরা প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের লোকজন তাদেরকে জোরপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দেয়। ভিজিএফ’র চাল না পেয়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাওসহ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন। এ ব্যাপারে স্লিপধারী মোছা: আমিনা, মো.আলী, আব্দুর রশিদ, নূরীসহ অনেকে বলেন, সকাল থেকে চালের জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু দু’ঘন্টা পর চেয়ারম্যান এসে আমাদের বলেন, চাল দেওয়া সম্ভব নয়। আপনারা ১০০ টাকার বিনিময়ে স্লিপ জমা দিয়ে যান। এতে আমরা রাজি না হলে তিনি অনেকের কাছ থেকে স্লিপ কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০০ লোককে উত্তোলন সাপেক্ষে বৃহস্পতিবার (আজ) চাল দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.নাসিম আহমেদ বলেন, চাল আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।