তিন মাস নয় এখন থেকে ছয় মাস শূন্য থাকবে জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত আসনগুলো! কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বিধান আছে সংবিধানে। কিন্তু কোনো দৈবদুর্বিপাকে আরো ৯০ দিন সময় পান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সংবিধানের সর্বোচ্চ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে ছয় মাস ধরে জনপ্রতিনিধি হতে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে করোনাকালে মৃত্যুবরণকারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকার জনগণকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত কারণে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলে আমরা করোনার পরে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করতাম।
এদিকে চলমান করোনা সংক্রমণের মধ্যেই পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই আসনগুলো হচ্ছে : পাবনা-৪, ঢাকা-৫, সিরাজগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮ এবং নওগাঁ-৬ আসন। এর আগে গত ১৪ জুলাই করোনার মধ্যেই বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সাধারণত মৃত্যুজনিত বা অন্য কোনো কারণে চলমান সংসদের কোনো আসন শূন্য হলে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৯০ দিনের সময় থাকলেও অন্য কোনো জটিলতা না থাকলে, কমিশন আগেভাগেই ভোট শেষ করে। এতে শূন্য আসনের জনগণ দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই তাদের নতুন জনপ্রতিনিধি পেয়ে যান। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে ছন্দপতন ঘটেছে। এ কারণে শূন্য হওয়া বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি বরং পরবর্তী ৯০ দিন, অর্থাত্ শূন্য হওয়ার ১৮০ দিনের একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে ভোট হয়েছে।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় বলা হয়েছে—‘সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈবদুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ৯০ দিনের মধ্যেও ভোট এড়ানো যায় কি না, তা খুঁজছিল কমিশন। এ বিষয়ে মতামত চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ইসিকে বাধ্য হয়ে শেষ প্রান্তে এসে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন করতে হয়।
সেপ্টেম্বরে দুই আসনে উপনির্বাচন
বর্তমানে শূন্য থাকা পাঁচটি আসনের উপনির্বাচন পরবর্তী ৯০ দিনের (শূন্য হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে) শেষ প্রান্তে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আছে। এর অংশ হিসেবে আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ঐ সময় তপশিল হলে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় ৯০ দিনের সময়সীমা যথাক্রমে ২৮ সেপ্টেম্বর ও ১ নভেম্বর শেষ হবে। এদিকে সদ্য শূন্য হওয়া সিরাজগঞ্জ-১ এবং ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে ৯০ দিন পার হতে ইসির হাতে এখনো সময় থাকলেও তারা পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর এবং ঢাকা-১৮ আসনের জন্য ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় পাবে ইসি। এছাড়াও সদ্য শূন্য হওয়া নওগাঁ-৬ আসনটির উপনির্বাচনের জন্য কমিশন আগামী জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় পাচ্ছে।