আগামী শনিবার আমাদের দেশে উদ্যাপিত হইতে যাইতেছে পবিত্র ঈদুল আজহা, মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উত্সব। এই উত্সব ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর। ঈদুল আজহার দুই রাকায়াত নামাজ আদায়ের পর ধর্মপ্রাণ দেশবাসী মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণে পশু কোরবানি করিয়া থাকে। এবার এমন এক সময়ে হজব্রত পালনসহ পবিত্র এই আনন্দোত্সব পালিত হইতেছে, যখন সমগ্র বিশ্বে দেখা দিয়াছে কোভিড-১৯ নামের মহামারির প্রাদুর্ভাব। স্বাভাবিক কারণেই এবার হজ পালন করা হইতেছে সীমিত পরিসরে। একই কারণে গত ঈদুল ফিতরের ন্যায় এইবারের ঈদের কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রেও মানিয়া চলিতে হইবে সামাজিক দূরত্ব।
মহান আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি করিবার রীতি অনেক প্রাচীন। প্রায় ৪ হাজার বত্সর পূর্বে হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হইয়া তাহার সবচাইতে প্রিয় বস্তু ও প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করিতে উদ্যত হন। আল্লাহর নির্দেশ শিরোধার্য ও অবশ্যপালনীয়। তাহা ছাড়া ইহা ছিল একটি বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পিতা-পুত্র উত্তীর্ণ হইলে আল্লাহর অপার মহিমায় ও রহমতে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ছুরির তলে তাহার প্রিয়তম পুত্রের পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হইয়া যায়। পৃথিবীতে এমন নজির আর দ্বিতীয়টি নাই। এই জন্য আল্লাহ তায়ালা প্রজন্ম হইতে প্রজন্মান্তরের জন্য কোরবানির বিধান করিয়া এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্মরণীয় করিয়া রাখিয়াছেন।
আল কোরআনের ক্ষুদ্রতম সুরা আল কাওছারে আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন, ‘তোমরা তোমার প্রভুর সন্তুষ্টি বিধানে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ কোরবানির সময় আমরা যে দোয়া ও আয়াতটি পড়ি তাহার অর্থ হইল :‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু-সবকিছু মহান রাব্বুল আলামিনের জন্য।’ ইহা ছাড়া আল্লাহর নিকট কোরবানি করা পশুর রক্ত বা মাংস কিছুই পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু বান্দাহর তাকওয়া বা খোদাভীতি। এই জন্য কোরবানির নিয়ত অবশ্যই সহিহ হইতে হইবে। লোকদেখানো বা কেবল গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরবানি করা হইলে তাহা কবুল হইবে না। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মতো সরকারি বা সরকার অনুমোদিত ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করিতে পারি। অথবা জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা ছাড়াও পরবর্তী দুই দিন তথা ১১ ও ১২ তারিখেও যে কোরবানি করা যায়, তাহার সুযোগ গ্রহণ করিতে পারি। সেই ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলিকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে এই তিন দিনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। অন্যদিকে কোরবানি করা ওয়াজিব, যাহা একটি ছাগল বা গরু-মহিষের সাত ভাগের এক ভাগ পরিমাণ কোরবানি দিয়াই সম্পন্ন করা যায়। সুতরাং একাধিক না দিয়া বাকি অর্থ করোনা আক্রান্ত দরিদ্র রোগী বা বন্যার্ত মানুষের জন্য সদকাহ করিয়া দেওয়া যাইতে পারে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আমরা সকলের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধিময় জীবন কামনা করি। সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা—ঈদ মোবারক।