তৈরি পোশাকশিল্পের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত হচ্ছে চামড়াশিল্প। বর্তমান রপ্তানিখাতে এই শিল্পের অবদান ৯ শতাংশের বেশি। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ খাত চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারের পট পরিবর্তন, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব ও বিভিন্ন জটিলতায় চামড়াশিল্প এগোতে পারেনি। নানান অব্যবস্থাপনার জন্য চামড়ার উত্পাদন কমছে। কাঁচা চামড়ার উপযুক্ত দাম না পেয়ে সংগৃহীত অনেক চামড়া নদীতে বা সড়কে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। দাম কম হওয়ায় চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছে অনেকে, যা চামড়াশিল্পের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার। তার ওপর করোনাকালের প্রভাব পড়েছে চামড়াশিল্পেও। চামড়াশিল্পের সংকটকে সরকার ও সংশিষ্টদের দেখতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। গত বছর ঈদুল আজহার পর চামড়া নিয়ে যে গভীর দুর্দশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন এইবার না হয়। আড়তদারেরা যাতে তাদের পূর্ববর্তী দায়দেনা-বকেয়া পরিশোধ করে চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করতে পারে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের চামড়া যাতে বিদেশে পাচার না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশ্বের চামড়ার বাজারগুলোতে এই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
মুহাম্মদ আবু হানিফ, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ