করোনার কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পাঠাদান কার্যক্রম প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। সব স্তরের শিক্ষার্থীরা কার্যত ঘরবন্দি। স্থগিত হয়েছে প্রথম সাময়িক ও অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে কি না তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়াই ওপরের ক্লাসে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছুসংখ্যক স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস অনলাইনে চলছে। কিন্তু স্কুলে ক্লাস করতে গিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠার উপলক্ষ্য পাচ্ছে না ছাত্রছাত্রীরা। এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই প্রশ্ন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে, পরীক্ষা কবে হবে? কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো কিছুই বলতে পারছে না।
বেশ কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্কুল খোলা হবে না—এটা ঠিক আছে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের শিক্ষা বিভাগের পরিকল্পনা কি তা আমাদের জানা উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়ম করে সপ্তাহে অন্তত একবার ব্রিফিং দেওয়া যেতে পারে। এতে করে অভিভাবকদের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরাও পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।
শিক্ষা বিভাগের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে বা পরীক্ষা কবে হবে—এই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই। সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে। করোনার এই অবস্থা চলমান থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব হবে না, পরীক্ষাও নেওয়া যাবে না।
গত ২ এপ্রিল উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার্থীরাও চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমিনুল নামে এক পরীক্ষার্থী জানিয়েছে, ‘পরীক্ষার সব প্রস্তুতি ছিল। সব আবার ভুলতে বসেছি। এ কারণে নানা দুশ্চিন্তায় আছি।’
এসব শিক্ষার্থীকে আশ্বস্ত করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, অন্তত ১৫ দিন সময় হাতে রেখে এইচএসসির রুটিন প্রকাশ করা হবে। তবে কবে এই রুটিন প্রকাশ হবে, সেটা তিনিও জানেন না। সবই নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।
পৃথিবীর যেসব দেশ করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রায় জয় করে ফেলেছে, তারা ইতিমধ্যেই স্কুল খুলে দিয়েছে। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে স্কুল খুলতে তাদের নানা পদক্ষেপ ছিল। স্কুলে প্রবেশের সময় শিশুদেরকে হাত ধোয়া, ক্লাসে শিক্ষার্থী কমিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি। প্রতিটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ২০ থেকে ৩০ জনের মধ্যে সীমিত রাখা।
তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখানে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে কারো কারো গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীসংখ্যা ৪০ থেকে ১০০ পর্যন্ত। বাংলাদেশের স্কুলের অবকাঠামো, সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হবে না। এ বিবেচনায় এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না—এমন বক্তব্যই শিক্ষা বিভাগের।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের দেখতে হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। করোনার সময় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মধ্যে রাখতে টেলিভিশন ও রেডিওতে ক্লাস চালু রয়েছে।’