গাজীপুর জেলা শহরে অবস্থিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে নন-কোভিড হাসপাতাল করার জোরালো দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যে জেলা মহামারি প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় হাসপাতালটিকে নন-কোভিড হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে সিদ্ধান্ত মোতাবেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্রও পাঠানো হয়েছে।
জেলায় হাজার হাজার শিল্প-কারখানায় প্রায় ২০ লাখ লোকের চাকরির সুবাদে ও জনসংখ্যার আধিক্যের কথা বিবেচনা করে তুলনামূলকভাবে বেশিসংখ্যক লোক কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটি কোভিড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এজন্য হাসপাতালটিতে ১০০ শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়। গত ২৩ এপ্রিল থেকে কোভিড-১৯ চিকিত্সা কার্যক্রম চালু করা হলেও প্রথম কয়েক দিন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। পরে কিছু কিছু রোগী ভর্তি হলেও সে সংখ্যা ১০/১২ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গত জুন মাসে পিক পিরিয়ডে সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা ৭০/৮০ জনে দাঁড়ায়। এখন রোগীর সংখ্যা কমে বর্তমানে দুই জন ভর্তি রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিত্সার জন্য হাসপাতালের সব বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া কোভিড রোগীদের চিকিত্সার জন্য কয়েক শ ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের প্রস্তুত রাখা হয়। এমনকি হাসপাতালে কোভিড পরীক্ষার জন্য ল্যাবও চালু করা হয়।
এদিকে হাসপাতালটিকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে পরিণত করায় এলাকার হাজার হাজার লোক প্রতিদিন চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক চিকিত্সাসেবা নিতে আসত। হাসপাতালটিতে কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসসহ প্রায় সব ধরনের চিকিত্সা ও প্যাথলজি টেস্ট করা হয়। বর্তমানে এসব চিকিত্সা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।