রাজধানীর পল্লবী থানায় বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত জঙ্গি সম্পৃক্ততা মেলেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে জঙ্গি বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নাকি জঙ্গিরা পূর্বপরিকল্পিতবভাবে পুলিশকে টার্গেট করে ওজন মাপার যন্ত্রের ভেতরে বোমা রেখেছিল সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার তিন জনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই রহস্যের উন্মোচন হবে। যে তিন জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বোমা পাওয়া গেছে, তাদের দুটি মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলাম রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার তিন জনকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, তাদের রিমান্ডে এনে ঘটনার সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কোনো ধরনের আলামত পাওয়া যায়নি।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক জন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওজন মাপার যন্ত্রের মধ্যে এভাবে অভিনব কায়দায় সন্ত্রাসীরা বোমা রেখেছিল তা মেনে নেওয়া কঠিন। জঙ্গিরাও তাদের ভাড়া করতে পারে। কারণ করোনা ভাইরাসের এই সময়েও অনেক জঙ্গি ধরা পড়ছে। যাদের মুখে দাড়ি নেই। সাধারণ সন্ত্রাসীদের মতো তারা ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো বেশি কৌশলী হওয়ার পরামর্শ তাদের।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, পল্লবীর এই বিস্ফোরণের সঙ্গে এখন পর্যন্ত জঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দায় স্বীকার নিছকই ‘ক্রেডিট নেওয়া’ বলে দাবি করেন তারা। গ্রেপ্তার হওয়া তিন সন্ত্রাসীও জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের শাহাদাত বাহিনীর লোক বলে স্বীকার করেছে।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, আইএস অতিতেও অনেক ফেক ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। এবারও সেরকমই দেখা যাচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাইনি। এর পরও আইএস যেহেতু দায় স্বীকার করেছে, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
পুলিশের দাবি, স্থানীয় এক রাজনীতিকের ছেলেকে হত্যার জন্য সাধারণ অপরাধীরা এই বোমা বহন করছিল। বিস্ফোরণের আগে রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন নামে যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এই তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
গতকাল দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করে এ ঘটনায় হওয়া অস্ত্র মামলায় সাত ও বিস্ফোরক মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চান। শুনানি শেষে বিচারক দুই মামলায় তাদের সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে তারাসহ পাঁচজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে তিন জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
ঢামেক ক্যাজুয়ালটি ব্লকের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, তারা সবাই এখন অনেকটাই আশঙ্কামুক্ত। এদিকে বুধবারের ঘটনার পর পল্লবী থানার পুলিশের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। আইনি সেবাপ্রার্থীরা এখন থানায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি এখনো কিছুটা অস্বাভাবিক রয়েছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই।