ঢাকার চারপাশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আশপাশের নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করায় ঢাকার চারপাশে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। দিন যত গড়াচ্ছে, বন্যার পানি আরো ফেঁপে উঠছে। এরই মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বেশ কিছু এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন রাজধানীর নিচু এলাকাগুলোর দিকে বন্যা ধেয়ে আসছে এবং মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোর অবনতি হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, টঙ্গী খাল, ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গার পানি সর্বোচ্চ ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। এসব নদীর পানি এখনো বিপত্সীমার নিচে প্রবাহিত হলেও আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে তা বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে। দেশের বন্যা পরিস্থিতি আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে ক্রমান্বয়ে উন্নতি হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। মধ্যমেয়াদি এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মার পানি সমতলে কমতে শুরু করেছে।

রাজধানীতে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের নলছাটা, দুর্গাপুর, তাম্বুরাবাদ, ধিতপুর, খলাপাড়া, ঠুলঠুলিয়া, আমুলিয়া-মেন্দিপুর এলাকার নিম্নাঞ্চল বালু নদের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খিলগাঁওয়ের ডিএসসিসির ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোর মধ্যে- ইদারকান্দি, ফকিরখালী, দাসেরকান্দি ও গজাইরাপাড়ার রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। এ ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলের কমপক্ষে ৩ কিলোমিটার রাস্তা তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরপানি জমেছে। এছাড়া ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী, লায়নহাটি, নাগদারপাড়, নাসিরাবাদসহ বেশির ভাগ এলাকার নিম্নাঞ্চল ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডেও দেড় শতাধিক ঘরে প্রবেশ করেছে বানের পানি।

ডিএসসিসির ৬, ৭৩, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর আশপাশের মধ্যে বন্যার অবনতি হয়েছে দোহার, সাভার ও ধামরাইয়ে।

সরেজমিন দেখা যায়, তুরাগ ও বংশী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে কালিয়াকৈরের সুত্রাপুর, ঢালজোড়া ও শ্রীফলতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও অসংখ্য ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে মাছের খামার। ডুবেছে ধামরাইয়ের আটটি ও সাভারের পাঁচটি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের। আশুলিয়ায় বন্যার পানির সঙ্গে শিল্পবর্জ্য মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। তুরাগ নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরে কাছের এলাকাগুলো তলিয়ে গেছে। আমিনবাজারের বড়দেশী হাজী নগর এলাকায় বন্যার পানি বেড়েই চলেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে চলমান বন্যা পরিস্থিতি আর এক দিন অর্থাত্ জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহেই ক্রমান্বয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি সমতলে বাড়তে পারে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আগামী আরো সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ডেমরা পয়েন্টে বালু নদ, মিরপুর পয়েন্টে তুরাগ নদ এবং রেকাবি বাজার পয়েন্টে ধলেশ্বরী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা আরো সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে দেশের ১৮টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। প্রধান প্রধান নদনদীর পানি ২৮ পয়েন্টে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবারের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর এবং ঢাকা জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। এ সময় স্থিতিশীল থাকতে পারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা সিটি করপোরেশন সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোর বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।