ঈদের পর দেশের সকল নিয়মিত আদালত খোলার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট।
সূত্র বলছে, ঈদের পর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য বেশ কিছু বেঞ্চ গঠন করে দেবেন প্রধান বিচারপতি। এসব বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনার সময় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন তা পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সব কোর্ট খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে বুধবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘আমরা এই ধারণায় উপনীত হয়েছি যে, আমাদের করোনা ভাইরাস, কোভিড-১৯-এর সঙ্গে বসবাস করতে হবে। সেজন্য আমি যদ্দুর জানি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার শেষ যে আলাপ হয়েছে, সেটা হচ্ছে ঈদের পরে স্বাভাবিক আদালতগুলো (নিম্ন আদালত) খুলে দেয়া হবে।’ তবে ফৌজদারি মামলার বিচারিক কাজে বা সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছু বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে বলে তিনি জানান। কিন্তু দেওয়ানি মামলায় সেটা নাও থাকতে পারে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে, যেসব আসামি কারাগারে আছেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কারাগারগুলোয় কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হয় নাই। এবং আমরা সেই অবস্থায় রাখতে চাই। আদালতের সেই কাজটা কিভাবে করব, আইনের কি পরিবর্তন লাগবে, সেদিকে আমরা এগিয়ে যাব। কিন্তু অন্যান্য কাজের সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে, সাধারণ আদালতের যেভাবে কাজ হচ্ছিল, সেই ভাবেই হবে। সেটা ঈদের পরপরই খুলে দেওয়া হবে।’ সুপ্রিম কোর্ট কবে খুলবে বা কীভাবে চলবে, সেই ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানান।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আদালত শারীরিক ভাবে খোলার জন্য বারের দাবি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আশাকরি ঈদের পর সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের সব আদালত খুলবে।
প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ চলছে। তবে আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়াসহ কিছু বিষয়ের কার্যক্রম শারীরিক উপস্থিতিতে চলছে।