কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা

ইত্তেফাক ডেস্ক

কোরবানির পশুর চামড়া কেনা-বেচা নিয়ে দিশেহারা মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অনেক জায়গায় কম দামেও চামড়া বিক্রি করতে পারেনি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। হতদরিদ্র মানুষরা কোরবানির চামড়ার টাকা থেকে একটা অংশ পাওয়ার আশা করলেও এবার তাদের ভাগ্যে জোটেনি কাঙ্ক্ষিত সাহায্য। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

বরিশাল :দাম কম থাকায় অনেক কোরবানিদাতা এবার চামড়া বিক্রিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কোরবানিদাতারা জানান, অন্যান্য বছর ১ হাজার টাকায় বিক্রিযোগ্য গরুর চামড়ার এবার সর্বোচ্চ দাম ছিল ২০০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায়। এদিকে চামড়ার বাজারের ধ্বংস ঠেকা?তে সরকারিভাবে ধান চাল সংগ্র?হের ম?তো সরকারের কাছে পশুর চামড়া সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শাহিন।

খুলনা :ঈদের দিন বিকালে খুলনা মহানগরীর শেখপাড়া চামড়াপট্টিতে বড় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। আর ছোট চামড়ার মূল্য ছিল মাত্র ১৫০ টাকা। অপরদিকে, ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস গড়ে ২০ টাকা করে। নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের দাখিল মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষক খানজাহান বলেন, তার মাদ্রাসার এতিমখানার জন্য ১৫৯টি গরুর চামড়া ও ৫৭টি ছাগলের চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম দামে ফুলতলার সুপার লেদারে বিক্রি করা হয়েছে।

সিলেট :এবার কোরবানির পশুর চামড়ার বলতে গেলে পানির দাম ছিল আর ছাগলের চামড়া ছিল ফ্রি। সর্বোচ্চ ১০ টাকা উঠেছে ছাগলের চামড়ার দাম। সিলেট নগরীর উপশহরের এক বাসিন্দা তিনটি খাসি জবাই করেন। ক্রেতা না পেয়ে খাসিগুলোর চামড়া রেজিস্টারি মাঠে ফেলে আসেন তিনি। কেউ কেউ জানালেন, বড় আকারের গরুর চামড়া প্রতি পিস ৭০-১০০ টাকা। ছোট গরুর চামড়া প্রতি পিস ২০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জয়পুরহাট :বিভিন্ন বাজারে প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ছোট-বড় ভেদে দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। প্রতিটি গরু চামড়া গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়, এবার ছোট গরুর চামড়া ২৫০-৩০০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া ৪০০ থেকে  ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।