বৃষ্টিতে কমেছে গরম বন্যারও উন্নতি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় এ বৃষ্টিপাত। তবে গত কয়েক দিনে মৌসুমি বায়ু কম সক্রিয় থাকায় এবং সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপদাহ শুরু হয়। এই তাপদাহে সৃষ্টি হয় অস্বস্তিকর অবস্থা। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকে দেশের মানুষ। তবে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হওয়ায় গরমের তীব্রতা কমতে থাকে। আগামী তিন-চার দিন আরো বৃষ্টি হবে এবং এতে পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে দেশের প্রধান নদনদীসমূহের পানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি আরো দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশের সব প্রধান নদনদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, মানিকগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশন সংলগ্ন নিমাঞ্চলসমূহের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে কয়েক দিন তীব্র গরমের পর গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হয়েছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন বরিশালে ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি হবে। সেজন্য কয়েক দিন বৃষ্টিও বাড়বে। গতকাল ঢাকায় ২৫ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৩২ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১২৫ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১০৬ মিলিমিটার, টেকনাফে ১০০ মিলিমিটার, বরিশালে ৯৬ মিলিমিটার, ভোলায় ৮১ মিলিমিটার, খেপুপাড়ায় ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে আজ বুধবার রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, লঘুচাপ আর মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী সময়ে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।