প্রধান আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি, ফাঁসির দাবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক এবং কলেজশিক্ষক আমিনুল ইসলাম নিক্সন গত শুক্রবার রাতে খুন হয়েছেন। তিনি ঐ ইউনিয়নের আজগড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আলাউদ্দীন তালুকদারের পুত্র। নিক্সন টাঙ্গাইলের লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। নিহতের পরিবারের দাবি, নিজ দলের সন্ত্রাসীদের হাতেই তিনি খুন হয়েছেন। হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় জেলহাজত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেছে। 

জানা যায়, গত শুক্রবার নিক্সন আজগড়া গ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোটরসাইকেলে ধনবাড়ী পৌরশহরের বাসায় ফেরার পথে নরিল্লা নামক স্থানে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মধুপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে নিক্সন মারা যান। নিহত নিক্সনের অনুজ কলেজশিক্ষক মামুন তালুকদার জানান, মারা যাবার আগে তার বড় ভাই জবানবন্দিতে ছাত্রলীগকর্মী সুজন ও সুমনের নাম বলে যান। খুনের নেপথ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের ইন্ধন রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মামলার বাদী নিক্সনের অনুজ মামুন তালুকদার পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো পাঁচ সাত জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে গত রবিবার ধনবাড়ী থানায় মামলা করেন।

এর আগে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ধনবাড়ী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। এরা হলো ছাত্রলীগকর্মী সুমন, সুজন মিয়া এবং  ফারুখ হোসেন। নিহত নিক্সনের স্ত্রী বিলকিশ বেগম অভিযোগ করেন, দুই বছর আগেও দলীয় কোন্দলের কারণে তার স্বামীর ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী সুমন। সে সময় আহত হলেও প্রাণে রক্ষা পান তিনি। ঐ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ছয় মাস জেলহাজতে ছিলেন সুমন। জামিনে বেরিয়ে দলীয় নেতাদের ষড়যন্ত্রে সন্ত্রাসী সুমন ও তার দলবলের হাতেই তার স্বামীকে অবশেষে জীবন দিতে হলো।