পল্লবী থানার ভেতরে বোমা বিস্ফোরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন

রাজধানীর পল্লবী থানার ভিতরে বোমা বিস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্য ও এক জন পুলিশ সোর্স আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। থানা ভবনের দোতলায় পরিদর্শকের (অপারেশন্স) কক্ষে বিস্ফোরণে পুলিশের সোর্স রিয়াজুলের বাম হাতের কবজি উড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বোমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘বোমা হাত দিয়ে নড়াচড়া করার সময় বিস্ফোরণ হলেই ঐ ব্যক্তির কবজি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আশপাশে যারা থাকবেন তারা বোমার স্প্লিন্টারে শরীরের বিভিন্নস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাই মুখ খুলছেন না। ঘটনাটি তদন্ত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন্স) মনিরুজ্জামান            বলেন, এর সঙ্গে জঙ্গি কার্যক্রমের সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড (ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিস)। বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানানো যাবে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শহীদুল ইসলাম (২৩), মোশাররফ হোসেন (২৬) ও রফিকুল ইসলামকে (৪০) ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদকারী ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতরা মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত বাহিনীর সহযোগী। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা এসব বোমা ও অস্ত্র মজুদ করেছে’।

অপরদিকে, থানার ভিতরে এই বোমা বিস্ফোরণ নিয়ে পল্লবী থানা এলাকার অনেকের মধ্যে কানাঘুষা চলছে। তারা বলছেন, গত ২৭ জুলাই রাতে পুলিশ সোর্স রিয়াজুল একটি ব্যাগে করে বোমাগুলো থানা ভবনের দোতলায় ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) ইমরানুল ইসলামের কক্ষে নিয়ে যান। এর আগেই ঐ দিন বিকালে পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকা থেকে পুলিশের একটি টিম শহীদুল, মোশাররফ ও রফিকুলকে আটক করে। তাদের একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে পল্লবী থানায় নিয়ে আসে।

২৭ জুলাই বিকাল থেকেই শহিদুল ও রফিকুলের মা-বাবা, ভাইয়েরা পল্লবী থানায় গিয়ে তাদের সন্ধান চান। কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার তাদের জানান যে, শহীদুল ও রফিকুল নামে কাউকে পুলিশ আটক করেনি। পরে ঐ দিন রাতে শহীদুলের মা পিয়ারী বেগম পল্লবী থানায় শহীদুলের নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি করেন।

এদিকে, ২৮ জুলাই রাত ১২টার দিকে পুলিশের ঐ টিম তাদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মাইক্রোবাসে করে রূপনগর থানা এলাকায় নিয়ে যায় কথিত এক যুবলীগ নেতাকে আটক করার জন্য। কিন্তু যুবলীগ ঐ নেতাকে আটক করতে পারেনি বলে পুলিশের ঐ টিম তাদের থানায় নিয়ে আসে। ২৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) ইমরানুল ইসলামের কক্ষে পুলিশ সোর্স রিয়াজুল ব্যাগ থেকে একটি ওজন মাপার যন্ত্র বের করেন। ঐ যন্ত্রের ভিতর তিনটি বোমা স্থাপন করা ছিল। রিয়াজুল একটি বোমা ওজন মাপার যন্ত্র থেকে খুলে টেবিলের ওপর রাখেন। বোমাটি রাখার পর একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘বোমা সঠিক নাকি ভিতরে বালু ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে?’ এ কথা শোনার পর সোর্স রিয়াজ বোমাগুলো কার্যকর নাকি অকার্যকর তা দেখার জন্য একটি বোমার চারপাশে প্যাঁচানো স্কচটেপ খুলতে থাকে। এরই মধ্যে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় বোমাটি। ফলে কক্ষের ভেতরে থাকা দুই সাব ইন্সপেক্টরসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। বিস্ফোরণে রিয়াজের বাম হাতের কবজি উড়ে গিয়ে কক্ষের ছাদে ঝুলতে থাকে।

তবে এই ঘটনাটি অস্বীকার করে পল্লবী থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃত তিন সন্ত্রাসীর মধ্যে মোশারফ পুলিশকে জানায় যে ওয়েট মেশিনের মতো দেখতে বক্সটিতে বোমা রয়েছে। তাই পুলিশ ঐ ওয়েট মেশিন থেকে বোমা বের করতে গিয়েই বিস্ফোরণ ঘটে।