বিপিএলকে ঘিরেও শঙ্কার মেঘ

স্পোর্টস রিপোর্টার

করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়া বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন ধীরে ধীরে সচল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুশীলন শুরু করেছেন ক্রিকেটাররা। চলতি মাসে জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পও শুরু হতে পারে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের ভবিষ্যত্ খুব আশাব্যঞ্জক নয়। জাতীয় দল, এইচপির ব্যস্ততার কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসরেও করোনার ধাক্কা পড়তে যাচ্ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিপিএল আয়োজনের চিন্তা করেছিল বিসিবি। এখন তা ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে পিছিয়ে যেতে পারে। তাছাড়াও বিপিএলকে ঘিরে আছে অনেক শঙ্কার মেঘ। করোনাকালে বিপিএল খেলতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা আসবেন কি না, ফ্র্যাঞ্চাইজিরা এই বছরে টুর্নামেন্ট অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে কি না—এখনই বলা কঠিন। গত আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বাদ দিয়ে বিপিএল করেছিল বিসিবি। করোনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সব প্রতিষ্ঠান। সেক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা বিপিএলে মোটা অঙ্কের অর্থ লগ্নি করতে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। 

গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বিপিএল আয়োজন নিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিপিএল ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করি। এখানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এসে খেলেন। যে পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা আসবে কী আসবে না, সেটা বড় প্রশ্ন। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা প্রস্তুত কি না সেটাও জানা জরুরি।’

বিপিএল নিয়ে সেপ্টেম্বরে আলোচনায় বসবে বিসিবি। জালাল ইউনুস বলেন, ‘আগস্ট মাস যাক। সেপেটম্বরে আমরা চিন্তাভাবনা করব। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আমাদের স্লট আছে। সেখানে আমরা আয়োজনের চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির বলার মতো উন্নতি হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু নিয়ে আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে চায় বিসিবি। মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান গতকাল বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি কিন্তু উন্নতি হয়নি। যদি করোনা আক্রান্তের সূচক নিম্নগামী হতো তাহলে কিন্তু আমরা চিন্তাভাবনা করতে পারতাম। এখন পরিস্থিতিটা ঐরকমই আছে নয়তো বাড়ছে। সেজন্য আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’ জাতীয় দল দ্রুতই মাঠে ফিরবে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবির এই পরিচালক। তবে ক্রিকেটারদের সুরক্ষার বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না বিসিবি।

শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বিসিবি। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড সফরে তিনটি টি-২০ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। চলতি বছরে আর এই সিরিজ হচ্ছে না। জালাল ইউনুসের দেওয়া তথ্য বলছে, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে সিরিজটি খেলবে বাংলাদেশ।