তারাগঞ্জে দুই বছর ধরে সেতু ভেঙে পড়ে আছে

খবির উদ্দিন, তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দুই বছর ধরে খারুভাজ নদীর ওপরের সেতু ভেঙে পড়ে আছে। অথচ সেতুটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। এর ফলে ঐ সেতুর আশপাশের গ্রামের মানুষ পড়েছে ভীষণ দুর্ভোগে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ অনেক দূরের পথ ঘুরে অন্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন।

এই সেতুটি তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের খারুভাজ নদীর নেকিরহাট নামক স্থানে নির্মিত। এটি গত ২০১৮ সালের বন্যায় ভেঙে পড়ে। এতে ঐ সেতুর ওপর প্রত্যক্ষ নির্ভরশীল ১০টি গ্রামের প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী ও হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কয়েক জন বাসিন্দা জানান, তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের নেকিরহাটের কাছে সেতুটির অবস্থান। আগে ঐ ইউনিয়নের মানুষ ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে তারাগঞ্জ সদর হয়ে রংপুর শহরে যাতায়াত করত। ঐ ইউনিয়নের সঙ্গে রংপুর শহরের যোগাযোগ সহজ করতে ১৯৯৬ সালে খারুভাজ নদীর ওপর নেকিরহাটের কাছে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাজারের কাছে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের এই সেতু নির্মাণ করে উপজেলা পরিষদ। এই সেতুর ওপর দিয়ে রংপুর শহর যেতে পথের দূরত্ব অনেক কমে যাতায়াত সহজ হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির এক দিকের অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে আছে। অন্যদিকের পিলারগুলোতে ফাটল ধরেছে। সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ আছে। নেকিরহাট গ্রামের কৃষক কুদ্দুস, সামাদ, নইমুলসহ কয়েক জন জানান, এমনিতে আমাদের আবাদ করা ফসলের দাম নাই। তার ওপর হাটবাজারে নিয়ে ফসল বিক্রিরও কোনো বুদ্ধি নাই। ব্রিজ ভেঙে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় আমরা পড়েছি চরম দুর্ভোগে। হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বাবুল জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ায় হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের মানুষ জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

এলজিইডির তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান বলেন, ‘ঐ সেতুটির কথা আমার জানা আছে। ঐ স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ঐ স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।’