কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিচ্ছে সরকার। সেজন্য এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে কাঁচা চামড়া রপ্তানির জন্য আবেদন আসতে শুরু করেছে। আরো এক থেকে দুই সপ্তাহ আবেদনের পরিস্থিতি দেখে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। এদিকে ভালো দামের আশায় আড়তদারসহ ট্যানারি মালিকদের কেউ কেউ কাঁচা চামড়া রপ্তানির চিন্তা করছেন। রপ্তানি সুযোগ এলে দাম বাড়তে পারে ভেবে কেউ কেউ কিনে রাখা চামড়া হাতছাড়া করতে চাইছেন না। তবে আগামী শনিবার থেকে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনতে শুরু করার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে পূর্বপ্রস্তুতি কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রেতা ধরা ছাড়া হুট করে এত অল্প সময়ে চামড়া রপ্তানি কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছেন অনেকেই।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে দুইটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনিশ ইত্তেফাককে বলেন, একটি আবেদন আমাদের কাছে এসেছে। আরেকজন তিন বছরের জন্য রপ্তানির অনুমতি চান। কিন্তু আমরা তো তিন বছরের চিন্তা করিনি। যাই হোক, প্রকৃত রপ্তানিকারক হলে রপ্তানির অনুমতি দেব। আগামী সপ্তাহ নাগাদ দেখব, কী পরিমাণ আবেদন আসে। তিনি বলেন, অনেকে চামড়া মজুদ করে রেখেছে। তাতে মনে হচ্ছে, তারা হয়তো রপ্তানির অনুমতি চাইতে পারে।
অবশ্য চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কাঁচা চামড়া রপ্তানি অত সহজ নয়। ট্যানারি মালিক কিংবা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের বাইরে আড়তদার বা অন্যদের পক্ষে এত অল্প সময়ে রপ্তানি করা সম্ভব নয়। কেননা কাঁচা চামড়া রপ্তানির অভিজ্ঞতা তাদের নেই। ফলে ক্রেতা কিংবা বাজার সম্পর্কেও তাদের তেমন ধারণা থাকার কথা নয়।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আফতাব ইত্তেফাককে বলেন, যারা কাঁচা চামড়া রপ্তানির চিন্তা করছেন, এর দক্ষতা এবং ক্ষমতা—কোনোটাই তাদের নেই। কেননা বায়ার (বিদেশি ক্রেতা) তৈরিসহ রপ্তানি বাণিজ্যের কার্যক্রমের সঙ্গে তো তারা নেই। তবে এবার ৪০ শতাংশের মতো কোরবানি কম হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
অবশ্য শেষ সময়ে এসে চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমালোচনা করছেন অর্থনীতিবিদরা। পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, ঈদের দুই-এক দিন আগে এসে রপ্তানির ঘোষণা দেওয়া হলো। এটা আসলে বলার জন্য বলা। তিনি বলেন, এ খাতে শৃঙ্খলার স্বার্থে নিয়মিতভাবেই কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ থাকা দরকার।