কালিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ৯

নবগঙ্গা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার জেরে নড়াইলের কালিয়ায় মাসুদ রানা (৩৫) নামে একটি বেসরকারি ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ঐ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৯ জন গুলিবিদ্ধ ও  ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে কালিয়া, নড়াইল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীরা ঐ সময় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িসহ      তিনটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার সকালে উপজেলার দেওয়াডাঙ্গা গ্রামে ঘটেছে ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। সন্ত্রাসী কাজল মোল্যাসহ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ছয় জনকে আটক করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে। নিহত মাসুদ রানা দেওয়াডাঙ্গা গ্রামের আলী আকবর শেখের ছেলে ও ইসলামী ব্যাংক ফরিদপুর শাখার এক জন নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

 পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেওয়াডাঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ঐ গ্রামের মকবুল মোল্যার ছেলে কাজল মোল্যা দীর্ঘদিন যাবত্ অবাধে অবৈধ বালু উত্তোলন করে আসছিল। বালু উত্তোলনে গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমিনুর শেখের নেতৃত্বে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া হয়। তারই জের ধরে বুধবার সকালে কাজল মোল্যার নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতে আমিনুর শেখের বাড়িতে হামলা চালিয়ে শটগানের গুলিবর্ষণ করে পর্যায়ক্রমে আমিনুর শেখ, শিমুল মোল্যা ও কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও পুরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার তবিবর রহমানের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় নারী ও শিশুসহ ৯ জন গুলিবিদ্ধ  এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ মাসুদ রানাকে চিকিত্সার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা  করেন।

নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ ইমরান বলেছেন, খুনিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।