১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ ছেলে শেখ কামালকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কামাল বেঁচে থাকলে সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারত।’ গতকাল শহিদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে কামাল যদি বেঁচে থাকত, এই সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারত। কারণ তার যে বহুমুখী প্রতিভা, সেই প্রতিভা বিকশিত হয়ে দেশের সব অঙ্গনেই কিন্তু অবদান রাখতে পারত এবং সে রেখেও গেছে ঠিকই।’ শৈশবের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পিঠাপিঠি ভাইবোন ছিলাম। একসাথে ওঠাবসা, খেলাধুলা, একসাথে চলাফেরা, ঝগড়াঝাঁটি সবই আমরা করতাম। একসাথে সাইকেল চালানো, একসাথে ক্রিকেট খেলা, ব্যাডমিন্টন খেলা, যেহেতু আমরা দুই ভাইবোন কাছাকাছি। আমার পুতুল খেলায়ও ও আমার সাথে থাকত। ছোটবেলা থেকেই বাকি সব খেলা আমিও ওর সাথে একসাথে খেলতাম।’
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শেখ কামালের সাহসী রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনীতির ক্ষেত্রে তার (শেখ কামাল) যেই সাহসী ভূমিকা, কারণ ছয় দফা দেওয়ার পর থেকে যে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় যখন জাতির পিতাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপরে দেশে যেভাবে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, প্রতিটি সংগ্রামে কামালের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে।’ প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শেখ কামালের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তার বোন শেখ হাসিনা।
খেলাধুলার প্রতি ভাইয়ের আকর্ষণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই আমি আর রেহানা বাংলাদেশ থেকে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হই। তখন বিয়ে হয়েছে, নতুন বউ। ওকে জিগ্যেস করেছিলাম, তোমাদের জন্য কী নিয়ে আসব? কামাল একটা ডায়েরিতে লিখে দিল, এডিডাস বুট নিয়ে আসবা আপা প্লেয়ারদের জন্য। সেই লেখাটা রয়ে গেছে। নিজের জন্য সে কোনো দিন কিছু চাইত না।’