বগুড়ায় বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে ব্যাপক সাড়া

শুধু ফসলি জমিতেই আর শাকসবজি চাষ নয়, এখন থেকে বাড়ির আঙিনাতেও বাগান করে শাকসবজির চাহিদা মেটানোর কার্যক্রম চলছে বগুড়া জেলায়। আর এই সবজি চাষাবাদে কৃষক ছাড়াও সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, সরকার থেকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। জেলায় প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার ৪৮৮ জন কৃষককে শাকসবজি চাষের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইল গ্রামের বাসিন্দা পলাশ চন্দ্র তার বাড়ির আঙ্গিনায় শাকসবজি চাষ করতে পতিত এক শতাংশ জমি তৈরি করেছেন। সম্প্রতি তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণায় বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করতে জমি প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, আঙিনায় শাকসবজি চাষ করে বিক্রি করতে না পারলেও নিজের পরিবারের সবজির চাহিদা তো মেটাতে পারব। তার মতো উপজেলার হিজলি গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলামও সবজি চাষে বাড়ির আঙিনার জমি প্রস্তুত করছেন। নুরুল ইসলাম জানান, তিনি বাড়ির পাশে ফসলি জমিতে যত্সামান্য শাকসবজির চাষ করতেন তা দিয়ে নিজের সংসারের চাহিদাই মেটানো সম্ভব হতো না। এবার বাড়ির আঙিনায় শাকসবজির চাষ করছেন অনেক আশা নিয়ে। ভালো ফলন হলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও শাকসবজি বিক্রি করতে পারব। কৃষি কর্মকর্তা তাদেরকে এ কাজে সহায়তা করছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুন মহল জানান, শুধু কৃষি জমিতেই নয়, বাড়ির আঙিনাতেও শাকসবজির বাগান করা যায় সে সম্পর্কে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ এবং চাষাবাদের পদ্ধতি দেখিয়ে দিয়ে এসেছি। এতে কৃষক ছাড়াও সবাই উপকৃত হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, সরকার থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করতে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে আসছেন। প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষক ছাড়াও সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে আঙিনায় শাকসবজি চাষ করতে। এতে ব্যাপক সাড়া মিলছে।