জলের বুকে ঢেউ তুলে একটার পর একটা ইঞ্জিনচালিত নৌকা পর্যটক নিয়ে ঢুকছে হাওরে। হাল্লা গ্রামে নদীর পাড়ে নৌকার জন্য অপেক্ষমাণ অনেক মানুষ। হাওর ঘুরে একটা নৌকা পাড়ে ভিড়লেই ভাড়া নিয়ে মাঝিদের সঙ্গে পর্যটকদের চলছে দর-কষাকষি। কার আগে কে নৌকায় উঠবে, এই নিয়ে প্রতিযোগিতা। আবার নৌকা না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পর্যটক হাওরে ঘুরতে পারেননি। ফিরেছেন হতাশ হয়ে।
পাশেই হাকালুকি-কনোনগোবাজার সড়কে পার্কিং করা মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। দূরের পর্যবেক্ষণ স্তম্ভ (ওয়াচ টাওয়ার), বন বিভাগের কার্যালয় ও হাওরপাড়ে পর্যটকদের বিশ্রামঘরে নানা বয়সি মানুষের ভিড়। গত রবিবার বিকালে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওর এলাকার চিত্র ছিল এমনই।
করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই মাধবকুন্ড ইকোপার্কসহ সকল পর্যটন স্পট বন্ধ। তাই ঈদের ছুটিতে উন্মুক্ত হাকালুকি হাওরকে বেছে নিয়েছেন পর্যটকরা। করোনা সংক্রমণের কারণে গত কয়েক মাস ঘোরাফেরা হয়নি। একঘেয়েমি কাটাতে তাই প্রকৃতির কাছে ছুটে যাওয়া। মুক্ত আকাশের নিচে হাওরের অপার সৌন্দর্য, উন্মুক্ত বাতাস, সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়াচ টাওয়ার ও বিট কার্যালয় থেকে লাফ দিয়ে অনেকে হাওরের পানিতে পড়ে ঝাঁপাঝাঁপি করছেন। কেউ সাঁতার কাটছেন। ছবি তুলছেন কেউ। অনেকে নৌকায় দল বেঁধে গান বাজিয়ে হাওরে ঘুরছেন। হাকালুকি হাওর ঘিরে মানুষের এই ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে একমাত্র বিট কর্মকর্তাকে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হওরের বেশির ভাগ অংশই পড়ছে বড়লেখা উপজেলায়। হাওর-সংলগ্ন তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা গ্রামে রয়েছে মনোহর আলী মাস্টারের পাখিবাড়ি। সারা বছর এই বাড়িতে পাখি থাকায় বাড়িটিকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, বিট কর্মকর্তার কার্যালয় ও পর্যটকদের বিশ্রামঘর। বর্ষা ও শীতে হাকালুকির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ এবং পাখিবাড়ি, হিজল-করচের বাগান দেখতে ভিড় করেন মানুষ। প্রতি বছর দুই ঈদেই হাওর এলাকায় মানুষ আসেন গড়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জন। কিন্তু এবার অন্যান্য স্পট বন্ধ থাকায় গত শনিবার থেকে সোমবার এসেছেন প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার পর্যটক। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক স্থানীয় কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কেউ নৌকা চালিয়ে, কেউ পর্যটকদের সহায়তা করে আবার কেউ যানবাহন পাহারা দিয়ে আয় করছেন। বন্ধুদের নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহি আবিদ বলেন, হাকালুকি হাওর এলাকাটি উন্মুক্ত। তাই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি।
বন বিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট তপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘করোনাকালে সকল পর্যটন স্পট বন্ধ থাকলেও হাকালুকি হাওরটি উন্মুক্ত। অন্যান্য স্পট বন্ধ থাকায় গড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ আসছে।