সরকার রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ লইয়াছে এবং তাহা আগামী বত্সরই চালু করিবার জন্য তোড়জোড় চলিতেছে। সংবাদটি আশা জাগানিয়াই বটে। হাসপাতালটি তৈরি হইতেছে বাংলাদেশ সরকার, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে। ১২ বিঘা জমির উপর নির্মাণাধীন এই হাসপাতালের আন্তর্জাতিক মানের চিকিত্সাসেবা প্রদানের পরিকল্পনা রহিয়াছে। ১৩ তলাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে ভিভিআইপি, ভিআইপি কেবিন হইতে শুরু করিয়া সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ে চিকিত্সার সুযোগ থাকিবে বলিয়া জানানো হইয়াছে। ইতিমধ্যে হাসপাতালের জন্য ৮০ জন চিকিত্সক, ৩০ জন নার্স এবং ১০ জন কর্মকর্তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় উন্নত মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হইয়াছে। এই হাসপাতালে প্রতি বত্সর ২২ হাজার নিয়মিত রোগী চিকিত্সাসেবা পাইবেন এবং প্রতিদিন ২ হাজার হইতে ৪ হাজার রোগী বহির্বিভাগে সেবা গ্রহণ করিবেন বলিয়া আশা করা হইতেছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদিত হয়।
পরিকল্পনামতো কাজ হইলে এবং এই হাসপাতাল লইয়া যাহা আশা করা হইতেছে তাহা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হইলে চিকিত্সাসেবায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসিবে। আমরা জানি, বাংলাদেশের চিকিত্সাসেবায় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সাধারণ মানুষও সাধ্যমতো চিকিত্সাসেবা পাইতে বিভিন্ন দেশে গিয়া থাকেন। ইহাতে নিঃসন্দেহে দেশের একটি বড় অঙ্কের অর্থ বাহিরে চলিয়া যায়। এই হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা আসিলে সেই অর্থ দেশেই রহিয়া যাইবে।
কিন্তু কথা অন্যত্র। আন্তর্জাতিক মান কথাটি যত সহজে বলা যায়, মেইনটেইন করার বেলায় আসলে তত সহজ নহে। এই হাসপাতাল লইয়া সরকার এবং জনগণের স্বপ্ন নিশ্চয়ই বাস্তবায়িত হইবে, যদি কয়েকটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখা যায়। একটি হইল ঔষধের মান। উহা আন্তর্জাতিক মানের হইবে তো? উন্নত হাসপাতালের পাশাপাশি উন্নত ঔষধ না হইলে বৃথা যাইতে পারে চিকিত্সার প্রচেষ্টা। চিকিত্সকদের চিকিত্সা জ্ঞান যেমন—আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজন, তেমনি আধুনিক মানসিকতাও জরুরি হইবে। নিশ্চয়ই যাহারা কোরিয়া হইতে প্রশিক্ষণ লইবেন তাহারা কিছু শিখিয়া আসিবেন। সেই শিক্ষা যেন অন্য সহকর্মীরা অনুসরণ করেন তাহাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন হইবে। সর্বোপরি সততা, মানবসেবা ও ধৈর্য লইয়া তাহারা যদি চিকিত্সা দিতে পারেন তাহা হইলে দেশের মানুষই নহে, বিদেশ হইতে এই হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসাও অসম্ভব নহে। তাহাতে সরকারের রাজস্ব আসিবে। মনে রাখিতে হইবে, কেবল একটি বিশাল আধুনিক অবকাঠামো চিকিত্সাসেবার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ নহে। গুরুত্বপূর্ণ হইল সেবার মান। নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষ উহা বিশেষ বিবেচনায় রাখিবেন, ইহা আমরাও আশা রাখি।