অনন্যা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিভা সাংমা আর নেই

নারী শিক্ষার বিস্তারে বিশেষ অবদান রাখায় অনন্যা শীর্ষদশ পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিভা সাংমা আর নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পরলোকগমন করেন। বিকাল ৫টায় ধর্মীয় রীতি অনুসারে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

গারো নারী জাগরণের অগ্রদূত প্রতিভা সাংমা ১৯৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সনাতন মৃ।        মায়ের নাম বঙ্গবালা চাম্বুগং। অনন্যা পুরস্কার ছাড়াও তিনি ডেইলি স্টার ও জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ পুরস্কার লাভ করেন। গত এপ্রিলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে অনন্যা পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটি আগামী সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই এই মহীয়সী নারী সবাইকে ছেড়ে চিরবিদায় নিলেন। তার চিরবিদায়ে মধুপুর বনাঞ্চলের গারোদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রতিভা ১৯৩৮ সালে ময়মনসিংহ শহরের বিদ্যাময়ী স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৪৯ সালে মেট্রিক এবং ১৯৫১ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা থাকলেও মায়ের নির্দেশে ১৯৫২ সালে তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সেন্টমেরি মিশনারি হাইস্কুলে এবং পরে মধুপুর বনাঞ্চলের ভুটিয়া প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। গারো শিশুরা যাতে স্কুলে আসে, এজন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে গারো মহিলাদের উদ্বুদ্ধ করতেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমি অনেক গারো বাড়িতে গিয়েছি। মা-বোনদের বলেছি তোমরা জেগে ওঠো, সন্তানদের স্কুলে পাঠাও। শিক্ষিত না হলে তোমাদের অভাব যাবে না, নিজেরা টিকে থাকতে পারবে না।’

প্রতিভা সাংমার প্রচেষ্টায় শতাধিক মিশনারি প্রাইমারি ও তিনটি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে এখন শত শত গারো শিশু পড়ালেখা করে। ১৯৭২ সালে মধুপুর গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় তিনি অবদান রাখেন। এখান থেকেই ১৯৯১ সালে অবসর নেন। অবসরে গেলেও গারো শিশুদের তিনি সারাজীবন বিনা বেতনে পড়িয়েছেন। অনেকটা তারই প্রচেষ্টায় গারোদের শিক্ষার হার এখন প্রায় ৯০%। মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের ঘর বাঁধা হয়নি তার। আজীবন কুমারীই থেকে গেছেন। মৃত্যুকালে তিনি পালক পুত্রের ঘরের পাঁচ নাতিনাতনি রেখে গেছেন।