মানব পাচারের অভিযোগ

লিবিয়ার নাগরিকসহ ছয় জন গ্রেফতার

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পাদন ও বাংলাদেশের ভিসার শর্ত ভঙ্গের দায়ে লিবিয়ার এক নাগরিক এবং তার সহযোগী সুফি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গত দুই দিনে রাজধানীর হাতিরঝিল ও পল্টন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাব-৩-এর অপারেশন অফিসার (এএসপি) ফারজানা হক।

হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় লিবিয়ার নাগরিক সামির আহমেদ ওরফে ওমর ফিরোজকে। পল্টন এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সুফি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল গোফরান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান, ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম, হিসাবরক্ষক মহিন উদ্দিন ও ম্যান পাওয়ার এজেন্ট মো. সোহেল।

প্রাথমিক তদন্তে র্যাব জানতে পেরেছে, লিবিয়ার নাগরিক সামির আহমেদ টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে ঢাকার সুফি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামক রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অবৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানির কারবারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জড়িত আছেন। র্যাব আরো জানতে পেরেছে, তিনি রাজধানীর একটি বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ঐ হোটেলে থাকা-খাওয়া বাবদ ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। এসব টাকা তিনি প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে র্যাবের কাছে।

র্যাব সূত্র জানায়, ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে সামির আহমেদ বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের লিবিয়া হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। লিবিয়ায় তাদের বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রতি বছর অনেক লোকজনকে নিয়োগ ও অধিক বেতন দেওয়া হয় বলেও ব্যাপক প্রচারণা চালান তিনি। বাংলাদেশের নাগরিকদের নির্ধারিত দালালের মাধ্যমে সংগ্রহ করে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠাতে প্ররোচিত করে আসছিলেন তিনি।