মানহীন জ্বালানি প্রসঙ্গ

মানহীন জ্বালানি বাজারজাতকরণ রুখিতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। জানা গিয়াছে, মানসম্মত পেট্রোল ও অকটেন উত্পাদনে ব্যর্থ হওয়ায় ১৩টি বেসরকারি রিফাইনারির ১১টির কনডেনসেট বরাদ্দ বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলি হইতে উপজাত বা কনডেনসেট পরিশোধন করিয়া পেট্রোল ও অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেল উত্পাদিত হয়। ইহার মধ্যে পেট্রোল ও অকটেন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চাহিদাও অধিক। কিন্তু দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলি হইতে প্রাপ্ত পেট্রোল ও অকটেন কোনোটাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নহে। উলটা অভিযোগ রহিয়াছে, এই দুই জ্বালানির পাশাপাশি আমদানিকৃত ডিজেলে নিম্নমানের পেট্রোল মিশ্রণ করিয়া খুচরা পর্যায়ে বিক্রয় করা হইয়া থাকে। এই অভিযোগ ছিল কিন্তু দীর্ঘদিন ধরিয়াই। উল্লেখ্য, বাজারজাত করিবার পূর্বে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের মান পরীক্ষা করিয়া বিএসটিআই হইতে সনদ লওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু খোদ বিপিসিই এতকাল না করাইয়াছে মান পরীক্ষা, না নিয়াছে সনদ। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে পেট্রোল রিসার্চ অকটেন নাম্বার হইল ৮৭। বিএসটিআইও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ৮৭ নির্ধারণ করিয়াছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ঐ সকল বেসরকারি রিফাইনারিগুলির কখনোই ৮০-র বেশি থাকে না। বাস্তবে অভিযোগ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ৮০ মানও থাকে না। রিফাইনারিগুলি এই জ্বালানির রিসার্চ অকটেন নাম্বার কমাইয়া ৮০ মান করিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়াছে। ইত্তেফাকের এক রিপোর্ট হইতে জানা গিয়াছে, উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এখনো লিখিত সম্মতি না দিলেও মৌখিকভাবে ইহার সমর্থন দিয়াছেন।

আমাদের লিখিতে হয় আমরা লিখি; বলিতে হয় তাই বলি। কিন্তু আমাদের বলা যে বিশেষ কোনো কাজে আসিবে না তাহা অনুমেয়। ঐ সকল ব্যবসায়ী যখন কিছু চাহিতেছে, তাহা ছলে বলে কৌশলে, অর্থের শক্তিতে লইয়াই ছাড়িবে। কিন্তু আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাইব বৃহত্তর জনগণের স্বার্থের দিকে তাকাইতে। এই নিম্নমানের জ্বালানির কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশের ক্ষতি সাধিত হয়। বিশেষ করিয়া, বিলাসবহুল যানবাহনের দ্রুত ক্ষতি হইয়া থাকে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় আমাদের দেশে এখন অসংখ্য দামি গাড়ি রাস্তায় চলাচল করে। এমন সকল গাড়ি রহিয়াছে, যাহার খুচরা যন্ত্রাংশ স্থানীয় বাজারে দুষ্প্রাপ্য। সেই সঙ্গে এই দেশে বহু বিদেশি মিশন কাজ করিয়া থাকে, যাহারা আন্তর্জাতিক মানের চাইতে কম মানের জ্বালানি ব্যবহারে অভ্যস্ত নহে। ইহাও বিবেচনায় রাখিতে হইবে। তাহার চাইতে বড় কথা, চাহিদার তুলনায় দেশের বা আন্তর্জাতিক বাজারে কোথাও পেট্রোল বা অকটেন অপ্রতুল নহে। তাহা হইলে মানের সঙ্গে আপস করিতে হইবে কেন? বাংলাদেশকেও মানের দিক দিয়া এখন বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলাইতে হয়। হউক উহা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, উত্পাদনের ক্ষেত্রে অথবা ব্যাবহারিক বিষয়ে। সেইখানে অকটেনের মান নামাইয়া আনা খুব একটা সুখকর সংবাদ হইবে না। আমরা মনে করি, সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কোনো অসত্ পরিকল্পনার সঙ্গে শামিল না হইয়া বর্তমান নিয়মের প্রতি অবিচল থাকিলে ব্যবসায়ীরা রিসার্চ অকটেন নাম্বার ৮৭ মানিয়া লইবে। অর্থাত্ আমরা জ্বালানির মান কমাইবার সঙ্গে একমত নহি।