নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে বন্যার হানা

দুর্ভোগে

পানিবন্দি

মানুষ

ইত্তেফাক ডেস্ক

বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী এবং শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফসলি জমি। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, নারায়ণগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গতকাল শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি প্রবেশ করেছে ফতুল্লার নিম্নাঞ্চলে। দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের (কাশীপুর, এনায়েতনগর, বক্তাবলী, আলীরটেক) সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট সংলগ্ন বন্দর বাজারে পানি প্রবেশ করেছে। ডুবেছে দোকানপাট এবং নদী পারাপারের জেটি। পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে মানুষজন।

সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপালনগর ও প্রতাপনগরের ২০০ পরিবার, কাশীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নরসিংপুরের ২৫০ পরিবার, আলীরটেক ইউনিয়নের ১ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অর্ধশতাধিক পরিবার, এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকার সাড়ে ৪০০ পরিবার পানিবন্দি। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানি অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জানান, সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে কয়েকটি টিনের ঘর ভাঙনের শিকার হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকা পরিদর্শন করে কিছু ত্রাণসহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সাভার উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সাভারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশী তুরাগ এবং ধলেশ্বরীসহ তিনটি নদ-নদীই বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইছে পানি। উপজেলার বনগাঁও, ভাকুর্তা, তেঁতুলঝোরা, কাউন্দিয়া, স্বনির্ভর ধামসোনা ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বসতবাড়ি, বাজার, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও পুকুর। বন্যার কবলে পড়েছেন উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। বেশি ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষক।

অপরদিকে, শিল্প এলাকা হওয়ায় কল-কারখানার দূষিত বর্জ্য বন্যার পানিতে মিশে ছড়িয়ে পড়েছে নদী, খাল, বিল ও পুকুরে। ফলে বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্যার পানিতে সাভারে প্লাবিত হয়েছে অর্ধ শতাধিক গ্রাম। ফলে পানিবন্দি অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের কয়েক লাখ মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকায় নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় খাবারের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

এদিকে সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় যোগ দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।