আলাউদ্দিন আলীর জন্য প্রার্থনা

বিনোদন রিপোর্ট

 

দেশের কিংবদন্তী গীতিকার ও সুরকার আলাউদ্দিন আলী লাইফ সাপোর্টে আছেন। ঢাকার আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে বর্তমানে তার দেখভালের জন্য সার্বক্ষণিক রয়েছেন তার স্ত্রী ফারজানা আলীসহ তার অন্যান্য সন্তানরা। শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে গেলে গতকাল ভোর পৌনে ৫টায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থা খারাপ হলে কিছুক্ষণ পর তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। আলাউদ্দিন আলীর স্ত্রী ফারজানা আলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘ওনার অবস্থা খারাপ হলে আমরা অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করি। আসার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক পরীক্ষা করে দেখেন তার অক্সিজেন মাত্রা খুব কম। তীব্র শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এমন অবস্থায় দ্রুত তাকে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থায় নেওয়া হয়। তবে এখনও রক্তচাপ, হূত্স্পন্দন স্বাভাবিক না। ফুসফুসের একটা অংশ পুরোপুরি নিমোনিক। সব মিলিয়ে বলা যায়, ওনার অবস্থা মোটেও ভালো না। আগামী ২৪ ঘণ্টা তার জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ।’ আলাউদ্দিন আলী ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছেন। ২০১৫ সালের ৩ জুলাই আলাউদ্দিন আলীকে ব্যাংকক নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায়, তার ফুসফুসে একটি টিউমার রয়েছে। এরপর তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যান্সারের চিকিত্সাও চলছিল। এদিকে আলাউদ্দিন আলীর কন্যা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আলিফ আলাউদ্দিন বলেন, ‘বাবার অবস্থা আজ সত্যিই সঙ্কটাপণ্ন। আপনারা সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন।’ উল্লেখ্য, আলাউদ্দিন আলী বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরি করেছেন। তিনি একইসঙ্গে সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালা বাদক ও গীতিকার। গান লিখে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। গুণী এই মানুষের জন্ম ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে। তার বাবা ওস্তাদ জাদব আলী। মায়ের নাম জোহরা খাতুন।

দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে কাজ করেন দীর্ঘদিন। দেশবরেণ্য এই সংগীতজ্ঞের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছে তার পরিবার।