আলোকপাত

শিশুর মানসিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধ

শিরীন সুলতানা

শিশু মাতৃগর্ভ থেকে অত্যন্ত পবিত্র আত্মা নিয়ে পৃথিবীতে আসে। পৃথিবীর আলো-বাতাসে শিশুর মন ও শরীর গড়ে উঠতে থাকে। শিশুর গড়ে ওঠা নির্ভর করে পরিবেশ ও খাদ্যের ওপরও। একটি শিশুর জন্মের পরপরই অত্যন্ত প্রয়োজন শালদুধ। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই । শিশু পাঁচ-ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মাতৃদুগ্ধ পান করতে পারলে খুব ভালো। এতে সোনামণি শিশুর আত্মবিশ্বাস প্রবল হবে। শিশুর রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ধীরে ধীরে ব্যক্তিত্ব বিকাশ হতে থাকবে। সবচেয়ে বড় কথা, মা ও শিশুর সম্পর্ক নিবিড়, প্রগাঢ় হবে। পাশাপাশি শিশু তীক্ষ বুদ্ধিসম্পন্ন হবে। ছয় মাস বয়সে মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি শিশুকে পুষ্টিসমৃদ্ধ সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। একটি শিশু দুই বছর পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পান করলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যেসব উপাদানের প্রয়োজন হয়, সেই সব উপাদান আপনা হতেই পেয়ে যাবে। এজন্য মাকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে, গভীর উপলব্ধিবোধ থাকতে হবে। একটি সোনার শিশুর জন্য শালদুধ কতটা প্রয়োজন, সে বিষয়ে একজন মায়ের সম্পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। আজকাল বাবা-মায়েরা বাইরের কাজের চাপে হোক অথবা অজ্ঞতার কারণে হোক, শিশুকে স্বাভাবিক মানসিকতায় বিকশিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছেন। মনের মতো করে সন্তানকে গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শিশুর প্রয়োজনীয় খাদ্য হিসেবে মাতৃদুগ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সোনামণি শিশুটি সুস্থ-সবল, শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান হয়ে গড়ে উঠুক, এটাই আমাদের একান্ত কাম্য।

n লেখক :কবি ও বেতার ব্যক্তিত্ব, সদস্য,

বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, রাজশাহী শাখা