বিদায় জিদান ও রোনালদোর

স্পোর্টস ডেস্ক

রিয়াল মাদ্রিদ আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, দুই পক্ষের পথ বছর দুই আগেই বেঁকে গেলেও শুক্রবার রাতে লক্ষ্য ছিল অভিন্ন, এক গোলের ব্যবধান ঘোঁচানো। লিওঁর বিপক্ষে রোনালদো সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করলেও ২-১ ব্যবধানে জিতেও ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়মে বিদায় নেয় তার দল জুভেন্তাস। আর রিয়াল গেছে হেরেই। ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ২-১ ব্যবধানের এই হার কোচ জিনেদিন জিদানকে দিয়েছে নকআউট লড়াইয়ে প্রথম হারের বিস্বাদ।

দেড় হাজার কিলোমিটার দূরের দুই ম্যাচে শুরুর ১২ মিনিট না যেতেই পিছিয়ে যায় রিয়াল-জুভেন্তাস। নিজেদের বক্সে লিওঁর হাশিম আউয়ারকে রুখতে রদ্রিগো বেন্তাঙ্কুরের চেষ্টা অবৈধ মনে হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি থেকে লিওঁ ফরোয়ার্ড মেম্ফিস ডিপে নির্ভুল শটে আদায় করে নেন মহামূল্য অ্যাওয়ে গোল।

রিয়ালের পিছিয়ে যাওয়ার পেছনে অবশ্য দোষ পুরোটাই নিজেদের। সিটির ‘হাই প্রেসের’ কৃতিত্বও আছে বৈকি! এই হাই প্রেসে পড়েই তো গ্যাব্রিয়েল জেসাসের কাছে বল হারান রাফায়েল ভারান। তা থেকে গোল করে সিটিকে দারুণ সূচনা এনে দেন রাহিম স্টার্লিং।

তুরিনে পিছিয়ে পড়ে জুভেন্তাস জোর চেষ্টাটাই করেছে ম্যাচে ফেরার। বিরতির একটু আগে পেনাল্টিতে গোলের পর ৬০ মিনিটে দূরপাল্লার শটে রোনালদো যখন জোড়া গোলের দেখা পেলেন, জুভেন্তাসের প্রত্যাবর্তনকেই সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপর লিওঁর জমাট রক্ষণ একের পর এক আক্রমণ রুখে টিকিট কাটে লিসবনের, আরো একবার হতাশাই সঙ্গী হয় ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের।

ম্যানচেস্টারে রিয়াল মাদ্রিদের চেষ্টাতেও কমতি ছিল না। রদ্রিগো গোয়েসের ক্রস থেকে ২৯ মিনিটে করিম বেনজেমা গোল ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন প্রত্যাবর্তনের। বিরতির আগে-পরে রিয়াল রীতিমতো ত্রাসই ছড়াচ্ছিল স্বাগতিক রক্ষণে। তবে ৬৮ মিনিটে ভারানের আরেক ভুলে আশা শেষ হয়ে যায় রিয়ালের। মাঝ মাঠ থেকে ভেসে আসা বল ফরাসি ডিফেন্ডার বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে সুযোগসন্ধানী জেসাস জয় নিশ্চিত করেন সিটির।  দুই ভুল করে দলের বিদায়ের খলনায়ক ভারান পুড়ছেন নিদারুণ আত্মদহনে, ‘এ হার আমার একার, এটা আমাকে মেনে নিতেই হবে। এর দায়ভার আমি নিজ কাঁধে নিচ্ছি। আমরা ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু ভুলগুলোর চড়া মাসুল গুনতে হলো।’ কোচ জিনেদিন জিদান অবশ্য কোচিং ক্যারিয়ারের প্রথম নকআউট হারের পর তারিফ করলেন দলের, প্রতিপক্ষের। ফরাসি কোচের ভাষ্য, ‘হারলে খুশি হওয়া যায় না মোটেও, কিন্তু এ মৌসুমে পারফরম্যান্স নিয়ে নিজেদের গর্ব করা উচিত। প্রতিপক্ষকেও অভিবাদন জানান উচিত, কারণ ওরা ভালো খেলেছে। যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে।’

এদিকে জুভেন্তাস কোচ মাউরিজিও সারি ক্ষোভ ঝাড়লেন রেফারির ওপর। প্রথম পেনাল্টি নিয়ে সারির ভাষ্য, ‘পেনাল্টিটা তর্কসাপেক্ষ। রেফারি এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর যোগ্য না।’ প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়েও হতাশা ঝেড়েছেন তিনি, ‘প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে অনুশোচনা হওয়া উচিত আমাদের। এ পর্যায়ে এসে এমন খেললে মাসুল গুনতেই হবে।’ শেষ আটে আগামী ১৫ আগস্ট একে অপরের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিওঁ।

সংখ্যায় সংখ্যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

১              চার বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে এটিই জিনেদিন জিদানের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউটে দুই লেগের লড়াইয়ে হার। ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো টানা দুই মৌসুমে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়ের বিস্বাদ নিয়েছে রিয়ালও।

২              দুই লেগেই হারের তেতো স্বাদটাও রিয়াল পেয়েছে ১১ বছর পরে। শেষবার ২০০৮-০৯ মৌসুমে লিভারপুলের বিপক্ষে দুই লেগেই হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।

                ২২০০৬-০৭ মৌসুমের পর মোটে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোল থেকে বিদায় নিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দুবারই লিওঁর বিপক্ষে (২০০৯-১০, ২০১৯-২০)।

                ৩রিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে অন্তত দুই বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় করা কোচদের সংখ্যা, যাতে সর্বশেষ সংযোজন পেপ গার্দিওলা (২০১০-১১, ২০১৯-২০)।  বাকি দুই জন হলেন—মার্সেলো লিপ্পি (১৯৯৫-৯৬) ও ওটমার হিটজফেল্ড (২০০০-০১, ২০০৫-০৭)।

৭             দুই মৌসুমে সাত গোল করে নকআউটে জুভেন্তাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার দুইয়ে উঠে এসেছেন রোনালদো। যুগ্মভাবে পর্তুগীজ তারকার সঙ্গে আছেন ফিলিপ্পো ইনজাগি, নয় গোল নিয়ে দুজনের ওপরে আছেন আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো।

৯৫           চলতি মৌসুমে ৩৭ গোল করে জুভেন্তাস ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো, ভেঙেছেন ৯৫ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ১৯২৫-২৬ মৌসুমে ৩৫ গোল করে কীর্তিটি গড়েছিলেন ফেরেঙ্ক হিজরেজ।