ফুটবলারদের আবারও টেস্ট করানো হবে

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের করোনা টেস্ট নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা। খেলোয়াড়দের বলা হয়েছিল তারা যেন ক্যাম্পে আসার সময় নিজ উদ্যোগে করোনা টেস্ট করিয়ে আনেন। খেলোয়াড়দের আনা অধিকাংশ রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গেলেও বাফুফের করানো টেস্টে ২৪ জনের মধ্যে ১৮ ফুটবলারই পজিটিভ হন।

গতকাল শেষ ধাপের খেলোয়াড়দের মধ্যে নাবিব নেওয়াজ জীবনের জ্বর থাকায় বগুড়া থেকে আসেননি। গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা, তৌহিদুল আলম সবুজ, তপু বর্মন, রায়হান হাসানদের করোনা টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও ইয়াসিন খানের রিপোর্ট রাত নয়টা পর্যন্ত হাতে পায়নি বাফুফে।

করোনা পরীক্ষা সবসময় নির্ভুল হয়না। সেকারণেই বাফুফে এখন দ্বিধা দ্বন্ধে না থেকে কাম্পের খেলোয়াড় কোচ সকলকে আগামী সোমবার পুনরায় করোনা টেস্ট করাবে। বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটি গতকাল জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে একই দিনে প্রত্যেককে দুই জায়গায় টেস্ট করাবে।

ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ পরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে  সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘অনেক সময় করোনা পরীক্ষার ফল সঠিক নাও হতে পারে। তাই নিশ্চিত হতে সোমবার দুটি প্রতিষ্ঠানে পর পর দুইবার সবার নমুনা পরীক্ষা করানো হবে। দুই প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট মিলে গেলে সেটাকে আমরা সঠিক ধরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। আর যদি দুই প্রতিষ্ঠানে দুই রকম রেজাল্ট আসে তাহলে কয়েকদিন পর আবার পরীক্ষা করাব।’

বাফুফের মেডিক্যাল কমিটি প্রথম দফায় যাদের টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ বলেছিল, দুই দিন পর তাদের মধ্যেও করোনা শনাক্ত খেলোয়াড় রয়েছে বলে জানায়। বাফুফে দায়িত্ব দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে। তারপরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বাফুফে জানিয়েছে ৫ আগস্ট প্রথম দফায় টেস্টের রিপোর্টটি মেডিক্যাল সেন্টারের যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য ত্রুটিপূর্ণ হয়েছিল। জাতীয় দলের গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা বলছিলেন, ‘আমরা নিজ উদ্যোগে টেস্ট করিয়ে আনলাম। তারপরও পজিটিভ হচ্ছে। বুঝলাম না কোনটা সঠিক।’ বাফুফের মেডিক্যাল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ডা. আলী ইমরান সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন তাদের পরীক্ষা শতভাগ সঠিক।

প্রথম দফায় আমলে না নিলেও কোচসহ ১৮ ফুটবলার শনাক্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডের। ইংল্যান্ডে বসে তার দলে করোনার ছড়াছড়ি শুনে, হতবাক হয়েছেন তিনি। ফুটবলারদের সঙ্গে কোচ এবং ন্যাশনাল টিমস কমিটির যোগাযোগ ছিল। তারপরও কেন এমন হলো? বাফুফে খোঁজ নিয়ে জেনেছে বেশির ভাগ ফুটবলার গরুর হাঁটে গিয়ে ঘোরাঘুরি করেছে। খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রতি উদাসীন ছিলেন।

এদিকে এই পর্যন্ত যারা শনাক্ত হয়েছেন তারা সবাই গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে সারাহ রিসোর্টে আইসোলেশনে থাকবেন। সবাই এক ভবনেই থাকবেন। শনাক্তদের জন্য সবকিছুতে পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। কাজী নাবিল জানিয়েছেন যারা শনাক্ত হয়েছেন তাদের কোনো উপসর্গ নেই। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হবে।’