করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। অখণ্ড অবসর। এই অবসরে শিক্ষার্থীরা বসে থাকেননি। তারা বিভিন্ন শৌখিন কাজে সময় ব্যয় করেছেন। সফলতাও পেয়েছেন। এমন দুই শিক্ষার্থীর গল্প। যারা করোনাকালে সময়কে ভালো কাজে ব্যয় করেছেন। নিজের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সুনাম কুড়িয়েছেন। তাদের সফলতার গল্প লিখেছেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
আফসানা মিমি
ফাইনাল ইয়ার, এইচএসসি, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ
কাঠের ওপর কাজ, জামার ওপর পেইন্টিং, মাটির দুল ইত্যাদি নিয়ে শখের বশে কাজ করেছেন আফসানা মিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কাজে তার প্রচুর খ্যাতি। মিমি জানান, ‘করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কলেজ বন্ধ। এই সময়টাতে আমি শখের এসব কাজে সময় দিচ্ছি।’ এছাড়া ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি, লেখালেখি, উপস্থাপনা, অভিনয়— এসবও তার শখ। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে তার লেখা ছাপা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক কলাম লেখেন। মাঝে মাঝে তিনি গানও গান। মিমি জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি শখের কাজে সময় ভালোই কাটে। খারাপ কিছুতে জড়িত হওয়ার সুযোগ থাকে না। অযথা সময়ের অপব্যয়ও হয় না। সাতক্ষীরায় কলেজের পরিচিত মুখ মিমি। এক কথায় তার বহুমুখী প্রতিভা সবার নজর কেড়েছে। সবাই তার এসব কাজের জন্য প্রশংসা করেন। মিমির ইচ্ছা পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কাজ করে যাবেন।
মো. ওমর ফারুক
তৃতীয় বর্ষ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
ফারুক ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি অবসরে শখে ফিঞ্চ পাখি পালন করেন। বাসায় গড়ে তুলেছেন সুন্দর একটি পক্ষীশালা। করোনার দীর্ঘ ছুটিতে তিনি ফিঞ্চ পাখিতে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। পাখিকে বেশি সময় দিতে পেরেছেন। ডমিনেন্ট সিলভার জেব্রা, অরেঞ্জ বেস্ট ব্যাক জেব্রা, থ্রি বিসহ বিভিন্ন প্রজাতির জেব্রা ফিঞ্চের ব্রিড (বাচ্চা) করতে সফল হয়েছেন। তার সংগ্রহে আরো আছে— গোল্ডিয়ান ফিঞ্চ, আউল ফিঞ্চ, লংটেল ফিঞ্চ। শখের বশে তিনি মোরগও পালন করেছেন। জেব্রা ফিঞ্চের কোয়ালিটি, সাইজ নিয়ে কাজ করতে ওমর পছন্দ করেন। এই পাখির মাধ্যমে তিনি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চান। পাখির বাচ্চা বিক্রি করে তার পকেট খরচের জোগান হয় বলে তিনি জানান। তিনি পোষা পাখি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখিও করেন। বাংলাদেশ ফিঞ্চ সোসাইটি নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গে তিনি জড়িত।