জুটির স্বস্তি জুটির আক্ষেপ

ক্রিস ওকস আর জশ বাটলার লড়াইয়ে না নামলে নিশ্চিত পরাজয়ই দেখছিল ইংল্যান্ড। এমনিতেই চতুর্থ ইনিংসে ২৭৭ রানের লক্ষ্য সহজ নয়। আর সেখানে মাত্র ১১৭ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে রীতিমত কাঁপছিল ইংল্যান্ড। ১৩৯ রানের জুটি গড়ে জয় নিশ্চিত করেন ওকস-বাটলার। দিন শেষে তাই অধিনায়ক রুটের কণ্ঠে স্বস্তির ছাপ। বললেন, ‘দারুণভাবে রান তাড়া করে জিতেছি আমরা। পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তবে, ওকস আর বাটলারের অতিমানবীয় জুটিতে ম্যাচটা আমাদের পক্ষে আসে। এটা বিশেষ একটা জুটি।’ এই জুটি যেমন ম্যাচ জিতিয়েছে ইংল্যান্ডকে, তেমনি টেস্ট ক্যারিয়ার বাঁচিয়েছে জশ বাটলারের। ৭৫ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এই ইনিংসে ব্যর্থ হলে জায়গা হারাতে হবে, জানতেন বাটলার। ম্যাচ শেষে সেটা অকপটে স্বীকার করে নিলেন। বললেন, ‘অবশ্যই এই ভাবনা এসেছে যে এবার রান করতে না পারলে সম্ভবত এটিই আমার শেষ ম্যাচ। এসব ব্যাপার মাথায় ছিল। তবে মাঠে নেমে চেষ্টা করতে হয় সেই ভাবনাগুলো চাপা দিয়ে খেলায় মনোযোগ দিতে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে। আমি সন্তুষ্ট যে সেটি এখানে করতে পেরেছি।’ তবে, উইকেটরক্ষক হিসেবে আরো পরিশ্রমী হতে হবে বলে মনে করছেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘উইকেটের পেছনে ঐ সুযোগগুলো আমি নিতে পারলে আরো ঘণ্টাদুয়েক আগেই আমরা জিতে যেতাম। খুব ভালো করেই জানি, আমি ভালো কিপিং করিনি। কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছি, এই পর্যায়ে যা করার সুযোগ কোনোভাবেই নেই, তা ব্যাটিংয়ে যত রানই করি না কেন। অবশ্যই আরো ভালো করতে হবে এবং আমি তা জানি।’ বাটলারের ব্যাপারে অধিনায়ক জো রুট বলেন, ‘বাটলার নিজের চরিত্র দেখাতে পেরেছে। ও বোঝাতে পেরেছে যে, চাইলে নতুন বলেও ব্যাটিং করতে পারে, আবার আক্রমণ করতে পারে স্পিনারদেরকেও।’ ম্যাচ সেরা অবশ্য হয়েছেন ক্রিস ওকস। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের। বল হাতে দুই ইনিংস মিলে পেয়েছেন চার উইকেট। যে জুটিতে স্বস্তি পেয়েছে ইংল্যান্ড, ঠিক একই জুটি পাকিস্তানের জন্য আক্ষেপের কারণ। এমনটাই দাবি করলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলী। তিনি বলেন, ‘হতাশাজনক, শেষটা মন মতো হলো না। বাটলার আর ওকসের জুটিটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রতিপক্ষকে আমাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। বোলিংয়ে শৃঙ্খলা ছিল আমাদের, সেকারণেই উইকেট পেয়েছি। কিন্তু, একটা জুটি পুরো ম্যাচটাই বের করে নিল।’