নতুন বছরে নতুন জায়গার খোঁজে

   n  মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম

 

নতুন বছরের শুরুতে ভ্রমণপ্রেমীরাও নতুন নতুন জায়গায় বেড়ানোর পরিকল্পনা করেন। কেউ কেউ আবার পরিচিত জায়গাগুলো ছাড়াও ছুটে যেতে চান একেবারে নতুন কোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পানে। আমাদের এ দেশেই ঘুরে বেড়ানোর মতো সে রকম অনেক অনেক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা স্থান রয়েছে। যার অনেকগুলোর নাম-ঠিকানা এখনো নিয়মিত ঘুরে বেড়ানো অনেক ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেই রয়েছে অজানা। এদেশের নির্মল সৌন্দর্যকে উপলক্ষ করে আজও অনেক গীতি-কবিতা-ছড়া লেখা হয়। কালজয়ী গান ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’র গীতিকার এই বাংলার বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তার গানের কথার মাধ্যমে তুলে ধরারই চেষ্টা করেছেন। এবার আসুন জেনে নিই নতুন বছরে নতুন নতুন কিছু জানা-অজানা অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক প্রাচুর্যে ভরপুর জায়গায়গুলোতে ঘুরতে যাওয়ার বিষয়ে।

সাজেক ভ্যালি

দল বেঁধে ঘুরতে চাইলে চলে যেতে পারেন লুসাই কন্যা সাজেক ভ্যালি। পুরো পরিবার নিয়ে কিংবা নববধূকে সঙ্গে নিয়ে সাজেকের কংলাক পাহাড়ের চূড়াতে দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁয়ে কিংবা ঢেউ খেলানো পাহাড়ের মুগ্ধতায় এক অন্যরকম সূর্যোদয়ের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।

ছোট হরিণা

যারা একটু অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য রাঙামাটির গহীনে নৈসর্গের হাতছানি দেওয়া জায়গাটির নাম হলো ছোট হরিণা। কাপ্তাই লেকের নীলাভ পানিতে ভেসে ছোট হরিণা যাওয়ার পথটাকে মনে হবে যেন সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে সাজিয়েছেন।

তোজেংমা

এর নাম এখনো শতকরা ৯৫ ভাগ নিয়মিত পর্যটকরাই শোনেননি। খাগড়াছড়ি জেলার আলমগীর টিলা এলাকার এক অন্যরকম বুনো সৌন্দর্যের ঝরনার নাম তোজেংমা। দুটো ঝরনার পানি একই বিন্দুতে এসে মিলে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মন মাতানো ছন্দ। তোজেংমার প্রবেশদ্বার রূপকথার আলীবাবার চিচিং ফাঁক সুড়ঙ্গের মতো রহস্যময় আকৃতি ধারণ করে আছে।

 

তিন্দু

তিন্দুর মায়াবী সৌন্দর্যের বর্ণনা লিখে বোঝানোর চেষ্টা ব্যর্থ প্রয়াস মাত্র। বান্দরবান জেলাকে সৌন্দর্যের রানি বলা হয়ে থাকে আর সেই রানির রাজধানী হলো তিন্দু। উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীর স্বচ্ছ পানিতে ছোট বড় নানা আকৃতির অজস্র পাথরের সমাহার আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক ভালোলাগার মোহনীয় জগতে। তিন্দুর অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে নতুন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাবে।

তুরং ছড়া

সে আরেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্েযর লীলাভূমি। সিলেট জেলার অপার বিস্ময় তুরং ছড়া। ওপারে ভারতের চেরাপুঞ্জি এপারে বাংলার ভোলাগঞ্জ। এখনো বহু পর্যটকের কাছে তুরংয়ের বিশালতা অজানাই রয়েছে।

শশীলজ

ধান-নদী-মহিষের সিং এই তিনে মিলে ময়মনসিংহ। একদা সৌখিন জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর ময়মনসিংহের বসত শশীলজে একবেলা কাটাতে গিয়ে দেখতে পাবেন প্রায় ২০০ বছর আগেই তারা কতটা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। বাড়ির ভিতরে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়বে সে সময় ইংল্যান্ড থেকে আনা গ্রিক দেবীর মর্মর মূর্তিটি। শশীলজের কারুকার্যময় দৃষ্টিনন্দন বাড়ির স্থাপনা আপনাকে বেশ রোমাঞ্চিত করবে।

যো গা যো গ

 

রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার থেকে ট্রলারে বা নিয়মিত রুটের লঞ্চ যোগে ছোট হরিণা যেতে হবে। তোজেংমা যেতে হলে খাগড়াছড়ির দিঘিনালা থেকে বাইক যোগে যেতে হবে আলমগীর টিলা। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে তোজেংমা। সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে অটোতে চরার বাজার, সেখান থেকে বাইকে বা হেঁটে যেতে হবে তুরং ছড়ায়। এ ছাড়া সাজেক-তিন্দু-শশীলজে যাওয়ার ম্যাপ গুগোলে সার্চ দিলেই মিলে যাবে।