আজ সোমবার এই বিশ্ব কোভিড আক্রান্তের ২ কোটির ক্লাবে ঢুকিয়া পড়িল। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা অবধি এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি হইতে মাত্র দেড় লক্ষ কম। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল অবধি বিশ্বে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল অন্তত ৭ লক্ষ ৩০ হাজার। ইহা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রাপ্ত হিসাব হইতে তৈরি করা। গবেষকদের মতে, বাস্তব পরিসংখ্যান প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যার চাইতে কয়েক গুণ অধিক। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মৃত্যুতে শীর্ষ অবস্থানে রহিয়াছে যুক্তরাষ্ট্র। এই মুহূর্তে আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বের শীর্ষ ১৫ দেশের তালিকায় ঢুকিয়া পড়িয়াছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৭ হাজারের অধিক।
করোনার এই কালবেলায় একটি নূতন শব্দ সমগ্র বিশ্বে উচ্চারিত হইতেছে। তাহা হইল ‘নিউ নরমাল’। অর্থাত্ করোনার সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়া এই বিশ্ব যেইখানে প্রবেশ করিয়াছে, সেইখান হইতে পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় আর ফিরিয়া যাওয়া সম্ভব নহে। এখন যেইভাবে চলিতে হইবে, তাহাকেই বলা হইতেছে নিউ নরমাল। অবশ্য, নিউ নরমাল কথাটি এইবারই প্রথম ব্যবহূত হয় নাই। ২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর বিশ্বের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিকস আর তাহার পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়া যাইতে পারে নাই। বর্তমান পরিস্থিতিকেও একইভাবে ব্যাখ্যা করা হইতেছে। কোভিড আমাদের অন্য এক সমাজের সহিত যোগাযোগ ঘটাইয়া দিয়াছে। তাহা চীনের উহান হইতে শুরু করিয়া ওয়াশিংটন, লন্ডন, দিল্লি, ঢাকা—যেইখানেই হউক না কেন। গত মার্চ মাস হইতে সমগ্র বিশ্ব ভাইরাসটিকে আটকাইতে সকল ধরনের শক্তি প্রয়োগ করিয়াছে। দিনের পর দিন লকডাউনের মতো কঠোর পদক্ষেপ লইয়াছে; কিন্তু সকল বজ আঁটুনিকে ফসকাগেরো বানাইয়া ভাইরাসটি মানুষের শরীরের মধ্য দিয়াই বিশ্বভ্রমণ অব্যাহত রাখিয়াছে। বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, গত মার্চে প্রথম ঝড়ের পর ইউরোপ কোভিডের দ্বিতীয় ঝড়ের প্রস্তুতি লইতেছে। মার্চ-এপ্রিলে যেই করোনা-ঝড় ইউরোপকে লন্ডভন্ড করিয়া দিয়াছিল, এইবার হয়তো তাহা করিতে পারিবে না। সেই সময় বিশ্ববাসী সঠিক সতর্কবার্তা পায় নাই বলিয়া অভিযোগ আছে; কিন্তু এখন করোনার ব্যাপারে সমগ্র বিশ্বই লম্বা সময় পাইয়াছে। সুতরাং এই সময়ের অভিজ্ঞতার যদি সদ্ব্যবহার করা না হয় তাহা হইলে দ্বিতীয় ঝড়েও বিপর্যয় আসিতে পারে।
সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনের মতো বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ হার্ড ইমিউনিটির দিকে ঝুঁকিয়াছে। অনেকের মতে, বাংলাদেশও একই পথে চলিতেছে। বিশ্বের অনেক দেশের মতো আমরাও সাধারণ মানুষকে পুরাপুরি স্বাস্থ্যনিরাপত্তা দিতে পারি নাই বটে। তবে নিউ নরমালের মধ্যে আমরা অর্থনৈতিক বিপর্যয় রুখিয়া দিতে কলকারখানা খুলিয়া দিয়া সঠিক কাজটিই করিয়াছি। কারণ করোনা জীবনের চাইতেও জীবিকার অধিক ক্ষতি করিতেছিল। এই কারণে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরাইয়া আনিবার মাধ্যমে বাংলাদেশ যথোপযুক্ত কাজটাই করিয়াছে। আশা করা যায়, নিউ নরমালে আমরা করোনার সহিত মানাইয়া লইয়াই টিকিয়া থাকিতে পারিব। ইহার জন্য যেই ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতা প্রয়োজন, তাহা যেন আমরা ভুলিয়া না যাই।