হাবীবুল্লাহ সিরাজী
আগস্ট শোকের মাস। সে অর্থে বলতে গেলে আগস্ট আমাদের জাতীয় বেদনার মাস, ক্রন্দনের মাস। আমরা এই মাসে হারিয়েছি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমরা হারিয়েছি তার তিন পুত্র, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছাকে। সেই সঙ্গে আরো হারিয়েছি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য এবং অনেককে।
মানুষের এই ধরনের মৃত্যু কারো কাম্য নয়। আর স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছর পরে এসেই আমাদের প্রিয় নেতাকে এভাবে হারাব কল্পনাও করতে পারিনি।
এ বছরেই পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। আগামী বছর পালিত হবে স্বাধীনতার ৫০ বছর। কিন্তু আমরা এখন এমন একটা সংকট ও সংশয়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, শুধু আমরা কেন সারা পৃথিবীর মানুষ এক অদৃশ্য শক্তির কাছে নাজেহাল হচ্ছে। সেই শক্তির নাম করোনা। তবু আমাদের এগিয়ে যেতে হবেই।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পূরণ এবং স্বাধীনতার পূরণ মনে রেখেই মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুর দেশ পরিচালনাকালীন তাঁর উদ্যোগসমূহ আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাই এবং সেই সঙ্গে পৌঁছে দিতে চাই সাংবিধানিকভাবে আমরা যে বাংলাদেশের নাগরিক, আবার অন্যদিকে জাতিগতভাবে আমি বাঙালি এবং মনে করতে চাই সংবিধানের মূল চার নীতিকে— জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র।
আমি স্মরণ করতে চাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই আয়তনের দেশটির নাগরিক হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, বাংলাদেশ নামক দেশটির সৃষ্টিতে তাঁর ভূমিকার কথা পরবর্তী প্রজন্মকে মনে রাখার কথা বলি। স্মরণ রাখতে বলি মুক্তিযুদ্ধের কথা।
সবশেষে এই শোকের মাসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়নের। আমরা সুখী সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে বলতে চাই—জয় বাংলা।
[ লেখক : কবি ও মহাপরিচালক,
বাংলা একাডেমি]