জাতির পিতার রচনা পাঠ কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মুজিববর্ষে জাতির পিতার রচনা পাঠ কার্যক্রমকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে উল্লেখ করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, মুজিববর্ষ ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত গ্রন্থগুলোকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে যে পাঠ কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে একটি নতুন, সৃজনশীল ও প্রশংসনীয় কর্মসূচি। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সভাকক্ষে ‘মুজিববর্ষ ও জাতীয় শোকদিবস ২০২০’ উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত চার মাসব্যাপী পাঠ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি সচিব মো. বদরুল আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি-গবেষক মফিদুল হক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস, অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুর।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তিনটি গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর ওপর ‘পড়ি বঙ্গবন্ধুর বই, সোনার মানুষ হই’ শিরোনামে ঢাকা মহানগরের ১০টি বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রধানদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ১০টি বেসরকারি গ্রন্থাগারের সহযোগিতায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এটি শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ পাঠ কার্যক্রমকে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ৮০০টি গ্রন্থাগারের সহযোগিতায় সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

মফিদুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে তিনটি গ্রন্থ নিয়ে পাঠাগার আন্দোলন শুরু হচ্ছে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে এরচেয়ে বড় এবং সার্থক কোনো কর্মসূচি আর হতে পারে না।  

সাইফুল আলম বলেন, এই মাস শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার মাস। এই মাসে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে একটি রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার অপপ্রয়াস নেওয়া হয়েছিল। সে রকম একটি মাসে, জাতির পিতার তিনটি বই পড়ার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত।

মিনার মনসুর বলেন, জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে ‘পড়ি বঙ্গবন্ধুর বই, সোনার মানুষ হই’ শিরোনামের চার মাসব্যাপী ধারাবাহিক পরীক্ষামূলক এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো, গৃহবন্দি পাঠক—বিশেষ করে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে পাঠ্যবইবহির্ভূত সৃজনশীল ও মননশীল বই পৌঁছে দেওয়া।