ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা শুরু হওয়ার পর রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বা পিপিই রপ্তানির ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মাস্কসহ কিছু স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী রপ্তানিও করেছে। তবে এর মধ্যেই বড় অঙ্কের রপ্তানি চালানে কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে দেশের দুটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুনতাহা সোর্সিং ও সিলভারিন অ্যাপারেল নামে প্রতিষ্ঠান দুটি কানাডার নামকরা স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাসরেল মেডিক্যাল নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে মানহীন মাস্ক রপ্তানি করেছে। এর পর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মাস্কের পরবর্তী চালান বন্ধ করে দিয়ে অগ্রিম দেওয়া টাকা ফেরত চাইছে বাংলাদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে। ইস্যুটি নিয়ে কানাডা ও বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়েও আলোচনা চলছে। অবশ্য পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছেন, অভিযুক্ত রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দুটি নয়; কেবল মুনতাহা সোর্সিং।
রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীর বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই ঘটনা বাংলাদেশের পণ্য সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি করবে। এর ফলে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষত করোনার ভুয়া সনদ দেওয়ায় বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পর নতুন করে নিম্নমানের মাস্ক রপ্তানির ঘটনা রীতিমত সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
জানা গেছে, এ সমস্যা সমাধানে ঢাকার কানাডীয় হাইকমিশন এ বিষয়ে ইপিবিকে অনুরোধ জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইপিবি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও এ খাতের বায়িংহাউজগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িংহাউজ অ্যাসোসিয়েশনকে (বিজিবিএ) এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। বিজিবিএ সম্প্রতি ইপিবির কাছে ফিরতি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে—রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের সদস্য নয়। সংগঠনের সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ফলে এতে সুদূরপ্রসারী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র জানায়, কানাডার কুইবেক ও আলবার্ট প্রাদেশিক সরকারের কাছ থেকে সার্জিক্যাল মাস্ক সরবরাহের কাজ পায় সেখানকার বাসরেল মেডিক্যাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি আদেশ দেয় মুনতাহা সোর্সিং লিমিটেডকে। নমুনা অনুমোদনের পর ২১ লাখ ডলারের সার্জিক্যাল মাস্ক রফতানি করেছে মুনতাহা সোর্সিং। কিন্তু মাস্কের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠে, প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানি আদেশ অনুযায়ী মাস্ক পাঠায়নি। এর পরই প্রতিষ্ঠানটি টাকা ফেরত চেয়ে ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।
এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইস্যুটি নিয়ে আমরা ক্রেতা-বিক্রেতা, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও ব্যাংকের সঙ্গে অনলাইনে সভা করেছি। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মুনতাহা, সিলভারিন নয়। এখন ক্রেতার টাকা পাঠানোর (অগ্রিম প্রদত্ত টাকা) উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে রপ্তানিকারকের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করার ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন ইপিবির রিপোর্ট পেলে নিয়ম মেনে টাকা ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
সূত্র জানিয়েছে, বাসরেল বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে ৪০ কোটি ডলারের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী আমদানি করে থাকে। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এত বড় ক্রেতাকে ধরে রাখা জরুরি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী কারা সুরক্ষাসামগ্রী রপ্তানি করতে পারবে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে।’ রপ্তানিকারক মুনতাহা সোর্সিংয়ের কর্ণধার শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।