ইত্তেফাক ডেস্ক
লেবানন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ডাক দেওয়া বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী বৈরুত। কয়েক জন এমপির পদত্যাগের পর গতকাল দেশটির তথ্যমন্ত্রী ও পরিবেশমন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একমত পোষণ করে পদত্যাগ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার
প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াব সংকট নিরসনে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন, কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ থামছে না। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। গতকালও পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের। পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালায়। সেনাবাহিনীও মোতায়েন করেছে সরকার। বিক্ষোভে অন্তত ৭২৮ জন আহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। তারা সরকারকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ভবনে ও রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী মানাল আবদেল সামাদ গতকাল পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই সরকার লেবাননের নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনিও সরকারের একজন সদস্য হওয়ায় তার দায়িত্ব আছে। তাই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই প্রথম সরকারের কোনো এক মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। এর কিছুক্ষণ পর পরিবেশমন্ত্রী ডামিয়ানোস কাত্তারও একই কারণে পদত্যাগ করেন। জানা গেছে, কাত্তারকে রাখতে চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ছয় জন এমপি গত মঙ্গলবার বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গতকাল পর্যন্ত বিস্ফোরণে ১৫৮ জন নিহত এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
এদিকে বৈরুতের পাশে দাঁড়াতে গতকাল আয়োজিত জরুরি দাতা সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ফরাসির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আজ আমাদের কাজ হলো যত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্ভব মাঠ পর্যায়ে সাহায্যের সমন্বয় করা, যাতে যথাশিগিগর তা লেবাননের জনগণের কাছে পৌঁছানো যায়।’